বিশেষ এই দিনটি উপলক্ষে প্রদত্ত বার্তায় সরকারপ্রধান উল্লেখ করেন, বিশ্বনবীর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় অনুসরণ করার মাধ্যমেই একটি সুন্দর, ইনসাফভিত্তিক ও কল্যাণকামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
তিনি ব্যক্ত করেন, আখেরী নবীর আগমন মানবজাতির ইতিহাসে এক অতুলনীয় অধ্যায়। তাঁর শুভ পদার্পণ অন্ধকার দূর করে সত্যের আলোকচ্ছটা ছড়িয়ে দিয়েছিল। মানুষকে একেশ্ববাদ, সাম্য, সহমর্মিতা ও শান্তির শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে তিনি যে জীবনাচরণ রেখে গেছেন, তা চিরকাল বিশ্ববাসীর জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে থাকবে।
মুসলিম উম্মাহ ও দেশবাসীকে শুভচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং সর্বশেষ রাসুলের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।
পবিত্র গ্রন্থের উদ্ধৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুলের জীবন হলো সর্বত্তম অনুকরণীয় আদর্শ। সত্যনিষ্ঠা, গচ্ছিত আমানত রক্ষা, পরম ক্ষমা ও দয়ার যে মহান দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা সৃষ্টির প্রতি সৃষ্টিকর্তার অসীম ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, গোত্র, বর্ণ বা সামাজিক বিভাজন ভুলে মানুষের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিয়েছেন মহানবী (সা.)। অবহেলিত ও অসচ্ছল মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে এবং নারী, শিশু ও প্রতিবেশীর অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি কড়া নির্দেশ দিয়ে গেছেন। তাঁর বার্তা মানুষকে বিভক্ত না করে সম্প্রীতি ও স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ করে।
বিশ্বের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘাত, হিংসা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ে মানবজাতি যখন বিপন্ন, তখন মহানবীর শিক্ষা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সংকটকালে রাসুলের দেওয়া নৈতিকতা অনুসরণ করাই শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায়।
উদীয়মান যুবসমাজকে দেশের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে অপরাধ, সন্ত্রাস ও মাদকের কুপথ থেকে সরিয়ে সত্য, জ্ঞান ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে রাসুলের জীবনী এক অনন্য দিকনির্দেশক। তাঁর জীবনধারা তরুণদের ন্যায়পরায়ণ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করেন, যেন প্রিয় নবীর রেখে যাওয়া সুন্নত অনুসরণের মাধ্যমে সমগ্র দেশে সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবিকতার নীতি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।