শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৩ শতাধিক, ৩০১ শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার পর ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে সম্মত হয়েছিল। ওই শান্তি পরিকল্পনায় বিমান থেকে বোমাবর্ষণ ও কামান দিয়ে হামলাসহ সব ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছিল।

গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৩ শতাধিক, ৩০১ শিশু

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা থামেনি। এ বছর এসব হামলায় ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আর গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে, যাদের মধ্যে ৩০১ জন শিশু।

গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার পর ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে সম্মত হয়েছিল। ওই শান্তি পরিকল্পনায় বিমান থেকে বোমাবর্ষণ ও কামান দিয়ে হামলাসহ সব ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছিল।

এরপরও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার প্রমাণ পেয়েছে বিবিসি ভেরিফাই। তারা ডজন খানেক ভিডিও বিশ্লেষণ করেছে, যেগুলোতে ইসরায়েলি হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে। এসব হামলার মধ্যে গাজার সৈকত তীরবর্তী একটি ক্যাফে, বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেওয়া তাঁবু এবং একটি জানাজার মিছিলকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও রয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিক কয়েক মাস ছিল বিশেষভাবে প্রাণঘাতী। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রতিমাসেই ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।

হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব মৃত্যুর জন্য সরাসরি ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে দায়ী করেছে। তবে তাদের প্রকাশিত মৃতের তালিকায় বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি।

জাতিসংঘ এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে। বিশেষজ্ঞরাও বিবিসি ভেরিফাইকে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের স্বাধীন বিশ্লেষণেও একই ধরনের চিত্র পাওয়া যায়।

তবে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া মৃতের সংখ্যা নিয়ে দ্বিমত জানিয়েছে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)। বিবিসি ভেরিফাইকে আইডিএফ বলেছে, তালিকায় থাকা সবাই তাদের অভিযানের কারণে নিহত হয়েছেন— এমনটা ধরে নেওয়ার ‘কোনো ভিত্তি নেই’।

ইসরায়েলের দাবি, হুমকি মোকাবিলা এবং নিজেদের সেনা ও ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে দেশটি।

এ বছরের শুরুতে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল, এক ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে গাজা যুদ্ধে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি যোদ্ধা ছিলেন বলেও ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়।

গত বছর ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ওই মাসের শেষ পর্যন্ত হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২৫১ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করে। এরপরও প্রতি মাসেই ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর এক মাসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে জুলাইয়ে। ওই মাসে ২১ শিশুসহ ১৫২ জন নিহত হয়েছেন।

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘এসিএলইডি’ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সময় গাজায় ইসরায়েল প্রায় ২০০টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় হামাসের সদস্য বা অন্যান্য সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।