শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ব্রাহ্মণপাড়ায় গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় আব্দুস সাত্তার (৭৮) নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের দাবি, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকলেও সময়সংক্রান্ত জটিলতার কারণে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো সম্ভব হয়নি। জানাজায় স্থানীয় থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রাহ্মণপাড়ায় গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় আব্দুস সাত্তার (৭৮) নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের দাবি, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকলেও সময়সংক্রান্ত জটিলতার কারণে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো সম্ভব হয়নি। জানাজায় স্থানীয় থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকায় ছেলের বাসায় মারা যান আব্দুস সাত্তার। জীবনের শেষ সময়ে তিনি ছেলের সঙ্গেই বসবাস করতেন। ঢাকায় তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। কর্মজীবনে যোগাযোগ ও আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। মরদেহ পৌঁছাতে বিকেল সাড়ে পাঁচটা বেজে যায়। পরে জানাজা অনুষ্ঠিত হতে হতে সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ছয়টা হয়ে যায়। জানাজায় থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও উপজেলা প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। পরে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার ছাড়াই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

আব্দুস সাত্তারের ছোট ভাই শাহজালাল বলেন, ‘আমার ভাই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েও গার্ড অব অনার পাননি। তাঁর জানাজা মাগরিবের নামাজের পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত হননি। তবে থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।’

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার বলেন, গার্ড অব অনারের জন্য তাঁদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ছিল। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে যথাযথ সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যার পর হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনও উপস্থিত ছিল না। এ কারণে গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে পুলিশ সদস্যরা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ লাইন থেকে বিউগল বাজানোর জন্য একটি দলও এসেছিল। তবে উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি আসতে দেরি হওয়ায় রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো সম্ভব হয়নি। পুলিশ সদস্যরা জানাজায় অংশ নেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম বলেন, উপজেলা ও ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকেলে গার্ড অব অনারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের সময় সশস্ত্র সালাম ও জাতীয় পতাকা ব্যবহার করতে হয়। জাতীয় পতাকা বিধিমালা অনুযায়ী, সূর্যাস্তের পর রাতে বা অন্ধকারে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন কিংবা গার্ড অব অনার দেওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

ইউএনও আরও বলেন, ঢাকা থেকে মরদেহ আনার সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। পরিবারের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফনের নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। মাগরিবের পরও কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। এ কারণে গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি।