ইউরোপীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিটির (ইইএসসি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক ইনফোগ্রাফিক তথ্যানুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মাঝে পেশাগত কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা এবং উদ্বেগের মাত্রায় সবচেয়ে বাজে অবস্থায় রয়েছে গ্রিস।
সংস্থাটির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই তালিকায় সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ হার নিয়ে গ্রিস প্রথম স্থানে অবস্থান করছে। এর ঠিক পরেই ৪৫ শতাংশ হার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড। এছাড়া তালিকার শীর্ষ দশের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে সাইপ্রাস ও পোল্যান্ডে এই সমস্যার হার ৪১ শতাংশ এবং স্পেনে তা ৪০ শতাংশ। প্রথম দশের বাকি পাঁচটি দেশ হলো যথাক্রমে এস্তোনিয়া (৩৫ শতাংশ), পর্তুগাল (৩৪ শতাংশ), এবং বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া ও হাঙ্গেরি, যাদের প্রত্যেকটিতেই এই হার ৩২ শতাংশ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপ, দীর্ঘক্ষণ কাজ করা, পেশাগত জীবনের অনিশ্চয়তা, প্রতিকূল পরিবেশ এবং সর্বোপরি ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনের মাঝে ভারসাম্যহীনতাই মূলত কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের এমন অবনতির পেছনে দায়ী। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কর্মীদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সহায়ক কর্মপরিবেশ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ইউরোপের শ্রমবাজারে পেশাগত মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ কারণে কর্মীদের সার্বিক সুস্থতার স্বার্থে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও চাকরিদাতাদের সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।
তবে উল্লিখিত জরিপটির ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া, নমুনার আকার কিংবা নির্দিষ্ট উৎসের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি। তাই এই পরিসংখ্যানটিকে একটি সাধারণ ধারণাপত্র হিসেবেই বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত এই হারগুলো পেশাগত জীবনের চাপ বা বিষণ্ণতার একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে, যা সরাসরি চিকিৎসকের মাধ্যমে শনাক্তকৃত কোনো মানসিক রোগের ক্লিনিক্যাল হার হিসেবে ধরে নেওয়া সমীচীন হবে না।