হরমুজ প্রণালিতে ওয়াশিংটনের জারি করা কড়া নৌ-অবরোধের কারণে বিগত দুই মাসে অন্তত একশত বাণিজ্যিক নৌযানের গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় সেন্টকম দাবি করেছে, তেহরানের ওপর তাদের ঘোষিত ‘স্টিল ওয়াল অবরোধ’ পুনরায় সম্পূর্ণ কার্যকর করা হয়েছে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর পূর্বানুমতি ছাড়া একটি জলযানও এই সামুদ্রিক সীমানা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়নি। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও জোর দিয়ে বলা হয়, সাগরে মোতায়েন থাকা আমেরিকান সেনারা এই অভিযান বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পূর্ণ মনোযোগ বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের হার নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। সামুদ্রিক যান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলারের প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মাত্র সাতটি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ পথ অতিক্রম করেছে, যেখানে আগের দিন চলাচল করেছিল এগারোটি এবং বিগত দশ দিনের দৈনিক গড় ছিল পনেরোটি জাহাজ।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণভোমরা এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকে তেহরানের আরোপিত নানা বিধিনিষেধের কারণে এই নৌপথ দিয়ে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ১৮ জুন উভয় পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার সুবাদে সীমিত পরিসরে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল শুরু হলেও নতুন করে সামরিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ায় করিডোরটি আবারও বন্ধ হয়ে যায়। সার্বিক পরিস্থিতিতে প্রণালির ওপর নিজেদের অখণ্ড নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে বলে ইরান দাবি করে আসলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, নৌপথটি এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত ও কার্যকর অবস্থাতেই রয়েছে।