রবিবার, 25 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

গাজায় প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ ফিলিস্তিনি নিধনের আহ্বান ইসরায়েলি মন্ত্রীর

ইসরায়েলের চরম ডানপন্থি নেতা ও বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির গাজা উপত্যকায় প্রতি রাতে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনি নাগরিককে গুপ্তহত্যার মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ার বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছেন।

গাজায় প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ ফিলিস্তিনি নিধনের আহ্বান ইসরায়েলি মন্ত্রীর

ইসরায়েলের চরম ডানপন্থি নেতা ও বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির গাজা উপত্যকায় প্রতি রাতে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনি নাগরিককে গুপ্তহত্যার মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ার বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছেন।

তার দাবি, শুধু ইসরায়েলের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদেরই নয়, বরং সাধারণ ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করেও এই নিধনযজ্ঞ পরিচালনা করা প্রয়োজন।


সাবেক এক ইসরায়েলি জিম্মি রোম ব্রাসলাভস্কির সাথে একটি পডকাস্ট আলোচনায় অংশ নিয়ে বেন-গভির এই মন্তব্য করেন। গত রোববার এই কথোপকথনটি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ওই সাক্ষাৎকারে বেন-গভির ফিলিস্তিনিদের মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দিতেও অস্বীকৃতি জানান এবং তাদের 'অমানুষ' আখ্যা দিয়ে বলেন, গাজার বহু অধিবাসী আসলে বেঁচে থাকার অধিকার রাখে না।

বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী গাজায় সামরিক তৎপরতা কমিয়ে আনার যে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিয়েছেন, তারও তীব্র সমালোচনা করেন এই জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী। তার মতে, সুনির্দিষ্ট হুমকির বাইরে গিয়েও পূর্বের মতো লক্ষ্যভিত্তিক গুপ্তহত্যা অবিলম্বে শুরু করা উচিত। রাষ্ট্রীয় কাঠামো অনুযায়ী ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার মতো আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা বেন-গভিরের হাতে না থাকলেও, জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার একজন শীর্ষ সদস্য হিসেবে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণে তার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

আলাপচারিতায় ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়েও কথা ওঠে। ইসরায়েলের সামরিক আদালতে প্রাণঘাতী হামলায় দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার যে আইন সম্প্রতি কার্যকর করা হয়েছে, তার আওতায় সাবেক জিম্মি ব্রাসলাভস্কি নিজ হাতে বন্দিদের শাস্তি কার্যকর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। জবাবে বেন-গভির তাকে এই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

পাশাপাশি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে বিতাড়িত করে সেখানে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণের পক্ষেও নিজের পুরোনো অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। সমগ্র গাজা ভূখণ্ডকে নিজেদের সম্পত্তি বলে দাবি করা বেন-গভিরের এই ধরনের উচ্ছেদ পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা সুস্পষ্টভাবে 'জাতিগত নিধন' বা এথনিক ক্লিনজিংয়ের সমতুল্য বলে সতর্ক করেছেন। গাজার স্বাস্থ্য দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে ইসরায়েলি আগ্রাসনে ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

বেন-গভিরের এই চরমপন্থি মানসিকতা দীর্ঘদিনের। কৈশোরেই তিনি উগ্র জাতীয়তাবাদী ও নিষিদ্ধ কাহানিস্ট আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান এবং ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের ওপর অমানবিক কড়াকড়ি আরোপের পক্ষে তার অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি ব্যাপকভাবে সমালোচিত। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ তার ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ তার রাজনৈতিক উত্থানকে ঠেকাতে পারেনি। আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ইসরায়েলের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেন-গভিরের রাজনৈতিক আধিপত্য ক্রমশ বাড়ছে, যা গাজা ও ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরায়েল সরকারের কট্টর অংশের চরম আগ্রাসী মনোভাবকেই স্পষ্ট করে তুলছে।