শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সংকট মোকাবেলায় ইসরায়েলের কাছে সহায়তা চাইল সৌদি আরব

এই গোপন অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সৌদি প্রশাসনকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের রণকৌশলগত অবস্থান, ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধি এবং আসন্ন সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে আগাম ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ করা।

সংকট মোকাবেলায় ইসরায়েলের কাছে সহায়তা চাইল সৌদি আরব
সৌদি আরবের সঙ্গে সদ্য সম্পাদিত নিরাপত্তা সমঝোতার পরিধি নিয়ে ইসলামাবাদ নিজেদের সীমারেখা স্পষ্ট করার প্রেক্ষাপটে, হুথিদের সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট সামাল দিতে রিয়াদকে তথ্য ও নজরদারিগত সহায়তা প্রদানে তৎপর হয়েছে ইসরায়েল। 

দ্য জেরুজালেম পোস্টের তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সরাসরি সমন্বয়ে সৌদি আরব ও তেলআবিবের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোপন তথ্য আদান-প্রদান জোরদারে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সেন্টকমের শীর্ষ কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরেই এই ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা বোঝাপড়ার দ্বার উন্মোচিত হয়।

এই গোপন অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সৌদি প্রশাসনকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের রণকৌশলগত অবস্থান, ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধি এবং আসন্ন সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে আগাম ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ করা। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তেহরানের আনুকূল্য পাওয়া এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের একাধিক তেল পাইপলাইন, পাম্পিং স্টেশনসহ সংবেদনশীল জ্বালানি পরিকাঠামো এবং সীমান্তবর্তী জনপদে আকস্মিক ড্রোন ও রকেট হামলা জোরদার করেছে।

এদিকে বাব এল-মান্দেব প্রণালিসহ লোহিত সাগরের কৌশলগত নৌপথের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বলয় সুদৃঢ় করতে যুক্তরাজ্যের দরবারেও আনুষ্ঠানিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে রিয়াদ, যার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গ।

এর আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দ্বিপাক্ষিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে’ কেবল নিজেদের প্রতিরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই চুক্তি কোনো তৃতীয় পক্ষের ওপর যৌথ আগ্রাসনের সুযোগ দেয় না, যা পূর্বে আলোচিত সমন্বিত ইসলামিক সামরিক জোটের ধারণাকে দৃশ্যত সংকুচিত করেছে। ইসলামাবাদের এই স্পষ্ট অবস্থানের ফলেই সৌদি আরবের সমর্থনে পাকিস্তানের সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক স্বীকৃতি ও প্রকাশ্য মৈত্রী না থাকা সত্ত্বেও ইরান এবং তাদের আঞ্চলিক অক্ষের ক্রমবর্ধমান তৎপরতার মুখে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যবর্তী নিরাপত্তা সমন্বয় ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তবে এর পাশাপাশি সৌদি আরবের নিজস্ব বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি অর্জনের আকাঙ্ক্ষা এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পূর্বশর্তসমূহ উভয় পক্ষের আলোচনার টেবিলে গভীর রাজনৈতিক প্রভাব ফেলছে।

সূত্র: ফাস্ট পোস্ট