সৌদি আরবের সামরিক বহরে প্রায় ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের সমমূল্যের চার ডজন অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে হোয়াইট হাউস।
এই সম্ভাব্য সামরিক বাণিজ্য কার্যকরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন দেশটির আইনপ্রণেতাদের সম্মতির আবেদন জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়, যদিও চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পেতে মার্কিন কংগ্রেসের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, ন্যাটো জোটের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ এক মিত্রের প্রতিরক্ষা সুরক্ষা বৃদ্ধি করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। তাদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় সহায়ক ভূমিকা পালনকারী দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমেরিকার বহির্বিশ্ব নীতি ও সার্বিক নিরাপত্তার অনুকূল। একই সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তির এই যুদ্ধবিমান হস্তান্তর করলেও মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক প্রতিরক্ষা ভারসাম্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এমন এক মুহূর্তে এই বাণিজ্য প্রস্তাবের বিষয়টি সামনে এলো যখন ইয়েমেনের মারিব অঞ্চলে সৌদি আরবের মালিকানাধীন একটি এফ-১৫ বিমান ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে হুথি যোদ্ধারা। দেশীয় প্রযুক্তির ভূ-পৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে মার্কিন সামরিক যানটি ধ্বংসের একটি ভিডিও চিত্রও প্রকাশ করেছে তারা। একই দিনে সেখানে সংঘটিত সহিংসতায় তিন নাবালকসহ মোট পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
সংকট শুরুর পর থেকেই ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানিয়ে আসছে যে, তেহরানের মদদপুষ্ট হুথি গোষ্ঠী, রিয়াদ এবং ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের মধ্যকার এই সংঘাতে তারা সরাসরি কোনো সামরিক হস্তক্ষেপে জড়াবে না। এদিকে অত্যাধুনিক এই যুদ্ধপ্রযুক্তির স্পর্শকাতর বিবরণী বেইজিংয়ের হাতে পৌঁছে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় মার্কিন আইনসভার একাধিক সদস্য ইতোমধ্যে প্রস্তাবটির প্রকাশ্য বিরোধিতা করতে শুরু করেছেন। ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রতিনিধি রাজা কৃষ্ণমূর্তির মতে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যখন সামরিক প্রযুক্তি চুরির বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নির্দেশ করছে, তখন এমন বিশাল সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির সিদ্ধান্ত সমীচীন নয়।
এর আগে ওয়াশিংটনের ওপর একক সামরিক নির্ভরতা কমাতে পাকিস্তান ও তুরস্কের সাথে সম্মিলিতভাবে মক্কা চুক্তি সম্পন্ন করেছিল সৌদি আরব। অন্যদিকে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে কেবল তেল আবিবের হাতেই বর্তমানে এই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলো রয়েছে এবং রিয়াদকে তা সরবরাহের বিষয়ে আগে থেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে তারা। পাশাপাশি ২০১৯ সালের দিকে মস্কোর তৈরি প্রতিরক্ষা মিসাইল ব্যবস্থা সংগ্রহ করায় ন্যাটো মিত্র তুরস্ককেও এই যুদ্ধবিমান সরবরাহ প্রকল্প থেকে ইতিপূর্বে অব্যাহতি দিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।