ব্রিটেনের সাম্প্রতিক অনলাইন সুরক্ষা কাঠামোর আওতায় ব্যাপক পরিমাণ তথ্য সরবরাহের বাধ্যবাধকতা জারির বিরুদ্ধে সে দেশের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান অফকমের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা, টিকটক এবং এক্স। অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অননুমোদিত বিষয়বস্তু থেকে দূরে রাখার যুক্তি দেখিয়ে জারি করা নির্দেশিকাকে মাত্রাতিরিক্ত জটিল এবং অহেতুক তদারকির বোঝা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে প্ল্যাটফর্মগুলো।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গৃহীত অনলাইন নিরাপত্তা আইন কার্যকর করতে গিয়ে কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেছে নজরদারি সংস্থাটি। প্রণীত এই বিধির শর্তাবলি পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী অর্জিত বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ এক-দশমাংশ সমপরিমাণ আর্থিক জরিমানার কঠোর ধারা রাখা হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বিষয়বস্তু তদারকি ও অপসারণ সংক্রান্ত কাজের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জমা দেওয়ার নির্দেশনা পাঠায় অফকম। এই চাওয়ার মধ্যে রয়েছে আপত্তিজনক পোস্ট মুছে ফেলার খতিয়ান, কনটেন্টের বিস্তার কমিয়ে আনার অনুপাত এবং কী পরিমাণ ব্যবহারকারী এমন অনভিপ্রেত বিষয়ের সংস্পর্শে এসেছেন, তার চুলচেরা পরিসংখ্যান।
নজরদারি সংস্থার এই আগ্রাসী দৃষ্টিভঙ্গির সরাসরি বিরোধিতা করে আইনি প্রতিকার চেয়েছে প্ল্যাটফর্মগুলো। সাবেক টুইটার বা এক্সের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের কোনো আইনি বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এমন জটিল ও চাপিয়ে দেওয়া নির্দেশনার সম্মুখীন তারা অতীতে কখনো হয়নি। মেটার অভিযোগ, কোনো সুনির্দিষ্ট ও সংজ্ঞায়িত নিয়ন্ত্রণমূলক উদ্দেশ্য ব্যতিরেকেই তাদের সাতটি ভিন্ন সেবার বিশদ ও স্পর্শকাতর তথ্য চাওয়া হয়েছে। এদিকে আলাদা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ও সুরক্ষার পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও সংস্থাটি কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে টিকটক।
অপরদিকে অফকমের এক প্রতিনিধির দাবি, বিগত দুই দশকের বেশি সময় ধরে জবাবদিহিতা ও কাঠামোহীন থাকা একটি বিশৃঙ্খল ক্ষেত্রকে নিয়মের মধ্যে আনার স্পষ্ট দায়িত্ব তাদের দিয়েছে ব্রিটিশ সংসদ। নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই ও মূল্যায়নের লক্ষ্যেই এই সামগ্রিক পরিসংখ্যানের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিক কার্যকরের আগে তথ্যের পরিধি কিছুটা সংকোচন করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ।