মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত ১৫ দিনব্যাপী ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-১৪৪৮ হিজরির উদ্বোধনী সমাবেশে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রের প্রধান এ কথা ব্যক্ত করেন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই মহতি সম্মেলনে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে আসন গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, বর্তমান পৃথিবীতে সহিংসতা, হানাহানি, অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য, অসত্যের চর্চা এবং নৈতিক অবক্ষয় যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তা থেকে মুক্তি পেতে মহানবীর পথ অনুসরণ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
তিনি যুক্ত করেন, বিভাজন এবং প্রতিশোধমূলক মনোভাব কোনো জাতিকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যায় না। অতীতে ঘটে যাওয়া স্বৈরাচারী ও অন্যায্য ব্যবস্থার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য বিশ্বনবীর আদর্শকে বুকে ধারণ করে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় আমাদের একতাবদ্ধ থাকতে হবে।
বিশ্বনবীর জীবনধারাকে মানবজাতির মুক্তিসনদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর চরিত্রে সত্যবাদিতা, ক্ষমা, সহনশীলতা ও অনুকম্পার অপূর্ব সমাবেশ ঘটেছিল। বিশেষ করে প্রান্তিক ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর প্রতি তিনি ছিলেন অত্যন্ত সদয়। সমাজে প্রতিটি মানুষের মর্যাদা বজায় রাখতে তাঁর দেওয়া শিক্ষাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
সব সম্প্রদায়ের সহাবস্থান নিশ্চিতে মহানবীর নীতিকে অনুসরণীয় আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, মহান সৃষ্টিকর্তা বিশ্ববাসীর পথপ্রদর্শন ও কল্যাণে শেষ নবী পাঠিয়েছেন, যার ধরাধামে আগমন ছিল মানব ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।
এমন একটি সুশাসনভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়, যেখানে সকল ধর্মাবলম্বী নাগরিক নিজেদের ধর্ম স্বাধীনভাবে ও সসম্মানে পালন করতে পারেন এবং সাম্য ও সামাজিক সৌহার্দ্য হবে রাষ্ট্রের মূল স্তম্ভ।
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অগ্রগতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মান বৃদ্ধিতে বর্তমান প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এরই মধ্যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারীদের নিয়মিত ভাতা প্রদান প্রক্রিয়া সূচিত হয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যেই শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারিত রয়েছে।
সামাজিক অনাচার, দুর্নীতি, উগ্রতা ও গুজব প্রতিরোধে ধর্মীয় আলেম সমাজের কার্যকর ভূমিকার কথা তিনি মনে করিয়ে দেন। নতুন প্রজন্মকে সঠিক নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে আলেমদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
পরিশেষে ১৫ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা ঘোষণা করে এর সফলতা কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। বক্তব্য প্রদান শেষে তিনি এ উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ সিরাত গ্রন্থের উন্মোচন করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তা স্মারক হিসেবে একটি কোরআন বিশ্বকোষ সেট রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেন।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। অনুষ্ঠানে অন্য অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য উপস্থাপন করেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রশাসনিক সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক।