রবিবার, 8 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মুক্তাগাছায় ওসির কক্ষে প্রবেশ নিয়ে তর্কে থানা ও পুলিশ বক্স ভাঙচুর

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, অস্ত্রধারী একটি দলকে থানার দিকে অগ্রসর হতে দেখে দ্রুত সবাইকে সতর্ক করা হয়। তারা ফটক ও ট্রাফিক বক্সে হামলা করে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্তপূর্বক মামলা করা হয়েছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মুক্তাগাছায় ওসির কক্ষে প্রবেশ নিয়ে তর্কে থানা ও পুলিশ বক্স ভাঙচুর
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশে বাধা পাওয়ার জেরে থানা ভবন ও সংলগ্ন ট্রাফিক বক্সে হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্বে একদল লোক এই ভাঙচুরে অংশ নেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে এগারো জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ত্রিশ থেকে চল্লিশ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে রবিবার রাত সাড়ে আটটায় ঘটনার সূত্রপাত হয় এবং পরবর্তীতে রাত দশটার দিকে মূল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় অভিযুক্ত পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ রব্বানী টুটুল স্থানীয় ঈশ্বরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে আরিফ রব্বানী থানায় পৌঁছে ওসির কক্ষে ঢোকার চেষ্টা করেন। ওই সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য বকুল মিয়া জানান যে ভেতরে একটি জরুরি আলোচনা চলছে, তাই তিনি কিছুটা সময় বাইরে অপেক্ষার অনুরোধ জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নেতা দায়িত্বরত কনস্টেবলের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু করেন। শোরগোল শুনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা বাইরে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে তাঁদের সাথেও বিবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন কর্মী তাঁকে বুঝিয়ে থানা এলাকা থেকে নিয়ে যান।

তবে এর কিছুক্ষণ পরই রাত দশটার দিকে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রসহ একদল লোক নিয়ে তিনি পুনরায় থানা প্রাঙ্গণে হাজির হন। হামলাকারীরা থানার সদর প্রবেশদ্বার এবং পাশের ট্রাফিক পুলিশ বক্সে আঘাত করে জানালার কাচ গুঁড়িয়ে দেয় ও লোহার কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করে। পুলিশ সদস্যরা একযোগে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, অস্ত্রধারী একটি দলকে থানার দিকে অগ্রসর হতে দেখে দ্রুত সবাইকে সতর্ক করা হয়। তারা ফটক ও ট্রাফিক বক্সে হামলা করে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্তপূর্বক মামলা করা হয়েছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যের জন্য প্রধান অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এই মামলায় দ্বিতীয় অভিযুক্ত হিসেবে তাঁর ছেলে উপলকে রাখা হয়েছে। দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করে পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি শুনেছেন একটি অভিযোগ দায়ের করতেই ওই নেতা থানায় গিয়েছিলেন, পরবর্তীতে কথাকাটাকাটির জেরে কিছু লোক সেখানে জড়ো হয়; পুরো বিষয়টি দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রুকুনোজ্জামান রোকন স্পষ্ট জানিয়েছেন, থানায় হামলার মতো সহিংস কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় এবং তদন্তে দলীয় কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।