এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাদের জন্য আগামী ডিসেম্বর মাসেই পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই মাসের মধ্যে পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত ফলাফলও প্রকাশ করার চিন্তাভাবনা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই এই পরীক্ষার সময়সূচি বা রুটিন এবং ফরম পূরণের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এই প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যারা অনুত্তীর্ণ হয়েছেন, তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরীক্ষা দিয়ে যাতে চলমান শিক্ষাবর্ষের সাথেই নিজেদের শিক্ষাজীবন চালিয়ে নিতে পারেন, সেটাই কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য। নিয়মানুযায়ী, একজন পরীক্ষার্থী কেবল সেই নির্দিষ্ট বিষয়গুলোতেই অংশ নিতে পারবেন, যেগুলোতে তিনি ফেল করেছেন। কেউ যদি একটি মাত্র বিষয়ে আটকে গিয়ে থাকেন, তবে তাকে ওই একটির জন্যই বসতে হবে। তবে সার্বিকভাবে সর্বনিম্ন তিনটি থেকে সর্বোচ্চ চারটি বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার একটি সীমানা নির্ধারণ করার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে।
যেহেতু নিয়মিত পরীক্ষার তুলনায় এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশ কম, তাই কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় কিছু পরিবর্তন আনার কথা ভাবা হচ্ছে। ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, দেশের প্রায় পাঁচশো উপজেলার প্রতিটিতে একটি করে কেন্দ্র স্থাপন করার প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের আসন বিন্যাসের কাজটি সহজতর হয়। তবে কোন বিষয়ে কতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেবেন, তার ওপর ভিত্তি করেই কেন্দ্রের চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারিত হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের পরীক্ষায় ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী আটকে গেছেন। বোর্ড চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্যমতে, প্রায় দুই লাখ ৯৮ হাজার শিক্ষার্থী এক বিষয়ে ফেল করেছেন, যার প্রায় শতকরা আশি ভাগই এই দুটি বিষয়ের যেকোনো একটিতে অকৃতকার্য হয়েছেন। তাই কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোতে পরীক্ষার্থীর চাপ বিবেচনায় নিয়ে বাড়তি নজর রাখা হবে।
অন্যদিকে, পুনঃপরীক্ষার ফি যেন শিক্ষার্থীদের জন্য খুব বেশি আর্থিক বোঝা না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখছে বোর্ড। কেন্দ্র পরিচালনার আনুষঙ্গিক খরচের হিসাব কষেই একটি সহনীয় ফি নির্ধারণ করার চেষ্টা চলছে। তবে আগামী ডিসেম্বরেই দেশব্যাপী সাধারণ বৃত্তি পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তাই উভয় পরীক্ষার সময়সূচির মধ্যে যেন কোনো জটিলতা তৈরি না হয়, সেজন্য রুটিন প্রণয়নে একটি সঠিক সমন্বয় করার দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।