সরকারের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করে জনগণের সেবায় তাদের আন্তরিক মনোভাবের ওপর বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি দাবি করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিচালনায় বিদ্যমান সরকার পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধনে ভূমিকা রেখে চলেছে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া পাঠ পর্ব শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মতামত ব্যক্ত করেন। এই সময় সেখানে নবনিযুক্ত রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ দলীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, নানা সংকটময় পরিস্থিতি পার করলেও বর্তমান প্রশাসন কাজের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সততা বজায় রেখেছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা বাস্তবায়নে কাজ চলমান রয়েছে এবং সেই ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো এখন স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়কালের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের মূল কারণ ব্যাখ্যা করে রিজভী জানান, এটি কোনো কৃত্রিম বা ব্যক্তিগত ত্রুটির কারণে ঘটেনি, বরং বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাই এর মূল কারণ। বিশেষভাবে মহেশখালীর গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহকারী টার্মিনালে কারিগরি জটিলতা তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক চাপ কমে গিয়েছিল, যার ফলে শিল্প কারখানা ও বাসাবাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হয়।
তবে উক্ত টার্মিনালের ত্রুটি ইতোমধ্যে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়েছে এবং নিয়মিত এলএনজির চালান এসে পৌঁছানোর কারণে সার্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক ধারায় ফিরছে বলে জানান তিনি। দেশের এই দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুততম সময়ে সমাধান নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক আন্তরিকতার কোনো কমতি ছিল না বলে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বড় আকারের প্রকল্পের আড়ালে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতি হলেও বর্তমান সরকার সেসব অপচর্চা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত জনকল্যাণমূলক অবকাঠামো গড়ে তুলছে। একই সাথে সরকারের প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে সংসদের ভেতরে এবং গণমাধ্যমের সামনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছে।
দলীয় অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা উল্লেখ করেন, সংগঠনকে সর্বস্তরে শক্তিশালী করা এবং তৃণমূলের সাথে শীর্ষ নেতৃত্বের সুদৃঢ় মেলবন্ধন গড়ে তোলাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। মেয়াদ শেষ হওয়া জেলা ও অঙ্গসংগঠনগুলোর কমিটি পুনর্গঠন করে নতুন সম্মেলন আয়োজনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।