শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মুক্ত বাংলাদেশে গোপন বন্দিশালার অস্তিত্ব থাকবে না: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে ‘আয়নাঘর’ নামক কোনো গোপন নির্যাতনকেন্দ্রের স্থান হবে না এবং আর কোনো স্বজনকে প্রিয়জনের জন্য চোখের জল ফেলতে হবে না বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মুক্ত বাংলাদেশে গোপন বন্দিশালার অস্তিত্ব থাকবে না: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে ‘আয়নাঘর’ নামক কোনো গোপন নির্যাতনকেন্দ্রের স্থান হবে না এবং আর কোনো স্বজনকে প্রিয়জনের জন্য চোখের জল ফেলতে হবে না বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক বিশেষ স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক নিখোঁজের শিকার ব্যক্তিদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর অপরিসীম ত্যাগ ও মানসিক যন্ত্রণার কথা উল্লেখ করে তিনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

গুমের মতো ঘটনাকে জঘন্যতম মানবতাবিরোধী অপরাধ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এটি কেবল কোনো একজন ব্যক্তির নাগরিক জীবন কেড়ে নেয় না, বরং পুরো একটি পরিবারের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক ভিত্তিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। এ ধরনের কাজ দেশের সংবিধানে স্বীকৃত মানবিক মর্যাদা, জীবন রক্ষা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে সরাসরি ক্ষুণ্ন করে।

বিগত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ফ্যাসিবাদের আমলে ভিন্নমত দমন ও রাজনৈতিক আন্দোলন স্তব্ধ করতে সরকারি যন্ত্রের অপব্যবহার করে বহু মানুষকে গুম ও গোপনে হত্যা করা হয়েছে, আর আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানগুলো সেসব নির্মমতা অস্বীকার করে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ভিনদেশে গুম হওয়ার রোমহর্ষক ঘটনার কথা তুলে ধরেন।

গুম সংক্রান্ত গঠিত তদন্ত কমিশনের তথ্যের বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, প্রতিবেদনে ১ হাজার ৫৬৯টি গুমের সত্যতা উঠে এসেছে, যেখানে ২৮৭ জন এখনও নিখোঁজ অথবা মৃত। রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই বর্বরোচ্ছেদ চালানো হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আইনি সুরক্ষার বিষয়ে তিনি জানান, গুমের মতো অপরাধ চিরতরে নির্মূল করতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে ইতোমধ্যে স্বাক্ষর করেছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারকাজ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে পরিচালিত হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন।