পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, রাজনৈতিক ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে কাউকে অন্যায্যভাবে আটক রাখা হবে না—এই বিষয়টি প্রশাসন শতভাগ নিশ্চিত করবে।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় সরকারের যে অঙ্গীকার, তা সব ধরনের রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারীদের ক্ষেত্রেই বলবৎ। এর মধ্যে বিরোধীপক্ষ এবং বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও অন্তর্ভুক্ত।
তিনি ব্যক্ত করেন, কে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত তা বিবেচ্য বিষয় নয়; কোনো ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক রেষারেষির শিকার হয়ে জেলে না থাকেন, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
বিগত সতেরো বছরে দেশে নজিরবিহীন মানবাধিকার ভঙ্গের চিত্র দেখা গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই কঠিন পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান ভুক্তভোগী ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও এর কর্মী-সমর্থকরা।
সরকার অতীতের সেই অন্যায্য শাসন ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না জানিয়ে তিনি বলেন, সকল নাগরিকের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা রক্ষায় বর্তমান প্রশাসন সংকল্পবদ্ধ।
বিচারিক প্রক্রিয়া যাতে রাজনৈতিক আক্রোশের হাতিয়ারে পরিণত না হয় এবং জনগণের অধিকার যেন অক্ষুণ্ণ থাকে, তা রক্ষা করা সরকারের মূল দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের বৈদেশনীতি বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিশ্বমঞ্চে স্বকীয় মর্যাদা ও সমতা বজায় রেখে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষাই বাংলাদেশের মূল পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি। নির্বাচিত সরকারের জনসমর্থন বৈশ্বিক সহযোগীদের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানকে বহুলাংশে শক্তিশালী করেছে বলে তিনি মনে করেন।
দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি জটিল রাজনৈতিক বিষয় এবং রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এর স্থায়ী সমাধান খুঁজতে হবে। সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপ সৃষ্টি এবং মিয়ানমারের বিভিন্ন পক্ষের সাথে আলোচনা অব্যাহত রাখা হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুটি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হবে এবং এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
মিয়ানমারের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন, সীমান্ত অপরাধ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রকৃত হিসাব নির্ধারণে জটিলতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমান রোহিঙ্গা সংখ্যা তেরো লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
চীন সফরের সময় দেশটির প্রেসিডেন্টের সাথে আলোচনা এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের পরবর্তী সভাপতির দায়িত্ব পালন—এই সবকিছুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশ নিজের অবস্থান আরও মজবুত করতে পারবে বলে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ জানান।