নারী ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, রাষ্ট্র সবার এবং এখানে প্রত্যেকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্মানবোধ বজায় রাখার ওপরও তিনি জোর দেন।
মঙ্গলবার রাতে দিনাজপুরের মিশন রোডের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও শহরের প্রাচীন রায়সাহেব বাড়ি বারোয়ারি দুর্গামন্দির পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেবল কথায় নয়, বরং কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটায়। দলটির কথা ও কাজের মধ্যে সর্বদা মিল রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশবাসীর সার্বিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিরাজমান। এই অমূল্য ঐতিহ্য ধরে রাখতে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সেই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন যে, শারদীয় দুর্গোৎসব যেন নির্বিঘ্নে ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় সচেষ্ট রয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন এবং মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় ধর্মীয় এসব উপাসনালয়ের অবকাঠামোগত ও অন্যান্য সার্বিক উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন নিজেদের ধর্মীয় উৎসবগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে পালন করতে পারে, সেজন্য দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তি ও সহাবস্থান বজায় রাখার অনুরোধ করেন তিনি।
মন্ত্রীর এই পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি। এছাড়া জেলা যুবদলের আহ্বায়ক একেএম মাসুদুল ইসলাম মাসুদ, সদস্যসচিব রেজাউর রহমান রেজা, রায়সাহেব বাড়ি মন্দির কমিটির সভাপতি সুশীল চন্দ্র দাস এবং লোকনাথ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক মানবেন্দ্র দাস মনোজসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।