বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

চলতি বছর ৪১ লাখ গৃহকর্ত্রী পাবেন ফ্যামিলি কার্ড: অর্থমন্ত্রী

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে হতদরিদ্র পর্যায় থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে ওপরের স্তরের মানুষদের এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।

চলতি বছর ৪১ লাখ গৃহকর্ত্রী পাবেন ফ্যামিলি কার্ড: অর্থমন্ত্রী
চলতি বছর দেশজুড়ে ৪১ লাখ গৃহকর্ত্রীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই নাগরিক সুবিধা বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো ধর্ম, বর্ণ বা অতীত পরিচয় দেখা হবে না; বরং সম্পূর্ণভাবে প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতে এই কার্ড দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে হতদরিদ্র পর্যায় থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে ওপরের স্তরের মানুষদের এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। যারাই অভাবগ্রস্ত, তারা যে ধর্মের বা বর্ণের হোক না কেন, এই সুবিধা পাবেন। পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের দুর্গোৎসবে এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই মানুষের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে, যা সচরাচর চোখে পড়ে না। স্থানীয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, সমাজসেবক এবং পেশাজীবীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই উৎসব একটি সার্বজনীন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গত নির্বাচনের পর থেকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাঠামোতে বড় ধরনের ইতিবাচক রূপান্তর ঘটছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পুরো জাতিকে একতাবদ্ধ করে দেশ গড়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার ফলেই আজকে এমন ঐক্যবদ্ধ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, একটি জাতিকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে নিতে না পারলে কখনোই আধুনিক রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব নয়। অতীতে দেশে ভিন্নমতের প্রতি অসহনশীলতা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও জানমালের নিরাপত্তাহীনতার কারণে এমন জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বক্তব্যের শেষাংশে ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি আবারও সামনে এনে মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে নিশ্চিত করেন যে, সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না। কে কোন ধর্মের অনুসারী বা কার ঐতিহাসিক পটভূমি কী, তা একেবারেই বিবেচ্য বিষয় নয়। বরং সমাজের সবচেয়ে দুস্থ ও প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদের অর্থনৈতিক সুরক্ষার কথা ভেবেই এই সহায়তা কার্যক্রমটি পরিচালিত হবে বলে তিনি উপস্থিত সকলকে আশ্বস্ত করেন।