দেশের জ্বালানি খাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে হাইড্রোকার্বন বিষয়ে একটি পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর, ২০২৬) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। চুক্তিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং আলজেরিয়ার পক্ষে সই করেন দেশটির হাইড্রোকার্বন বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আরকাব।
দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতের বহুমুখী সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে সরকারি পর্যায়ে তথা জিটুজি চুক্তির আওতায় আলজেরিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), এলপিজি এবং অন্যান্য জ্বালানি তেল দেশে আনার বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এলএনজি ও এলপিজির অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং খনিজ সম্পদ যেমন—তেল, গ্যাস ও কয়লা অনুসন্ধানের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়েও দুই দেশের মন্ত্রী নিজেদের মতামত বিনিময় করেন।
বৈঠকে আলজেরিয়ার জ্বালানি খাতের আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ। এই চুক্তির ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মন্তব্য করে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এই গঠনমূলক উদ্যোগের ফলে আফ্রিকার একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি সরকারি প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম সামগ্রী ও গ্যাস আমদানি করা অনেক বেশি সহজতর হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আলজেরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাজমুল হুদা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে একই দিনে আলজেরিয়ার খনি ও খনিজ শিল্প বিষয়ক মন্ত্রী মুরাদ হানাফি এবং জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য শক্তি বিষয়ক মন্ত্রী মুরাদ আদজালের সঙ্গেও আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের জ্বালানি মন্ত্রী। এসব সৌজন্য বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা দিক উঠে আসে। এ সময় উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা বিনিয়োগ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, সার উৎপাদন, জ্বালানি খাত এবং কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন।