তেহরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়ে তেল আবিব দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
তিনি মনে করেন, ইরানি প্রশাসনের পতন ঘটানো সম্ভব হলে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর অস্তিত্বও বিলীন হয়ে যাবে। সম্প্রতি লেবানন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত কিরিয়াত শমোনা শহরের তেল হাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষাবর্ষের সূচনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী জানান, হিজবুল্লাহকে কোণঠাসা করার ক্ষেত্রে তাদের সশস্ত্র বাহিনী এরই মধ্যে বেশ সাফল্য পেয়েছে। তবে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই সামরিক তৎপরতা থামবে না। তার মতে, এই চূড়ান্ত লক্ষ্যটি হচ্ছে ইরানের বর্তমান রাষ্ট্রকাঠামোর পতন নিশ্চিত করা। ইরানকে একটি বিষাক্ত অক্টোপাসের মাথার সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, মূল মাথাটি বিচ্ছিন্ন করা গেলে পুরো দেহই অকার্যকর হয়ে পড়বে। আর এর মাধ্যমেই লেবাননের সঙ্গে স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত হবে।
ইসরায়েলি সরকারপ্রধান আরও জানান, তেহরানের ক্ষমতার পালাবদল ঘটানোই এখন তাদের মূল উদ্দেশ্য। এই ইস্যু নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে। এমনকি এই অনুষ্ঠানের মাত্র দুদিন আগেও তাদের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান ইরানি প্রশাসন যতদিন ক্ষমতায় টিকে থাকবে, ততদিন তারা নিজেদের আঞ্চলিক বলয় নতুন করে গড়ে তোলার এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাবে। শাসনব্যবস্থাটি যতই দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত হোক না কেন, চরমপন্থি মানসিকতার কারণে তারা এই পথ থেকে সরবে না।
পরিশেষে তিনি দাবি করেন, পারমাণবিক অস্ত্র ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার মতো বড় ধরনের হুমকিগুলো প্রতিহত করার একক ও অদ্বিতীয় উপায় হলো ইরানের বর্তমান সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজানো। এটি সফল হলে হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি ধ্বংস করার কাজটিও অনেক সহজতর হবে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।