মিসরের রাজধানী কায়রোর পশ্চিমাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্যুরিস্ট বাস এবং বৃহদাকার ট্রাকের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩ জন পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৩৪ জন। হতাহতদের মধ্যে স্থানীয় এবং বিদেশি উভয় ধরনের নাগরিক রয়েছেন। মঙ্গলবার সংঘটিত এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার খবরটি দেশটির সরকারি সংবাদপত্র আল-আহরামের এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
কায়রো-আসিয়ুত পশ্চিম মরুভূমি মহাসড়কে ঘটা এই বিপর্যয়ের পর উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বাস এবং ট্রাকের ভগ্নাবশেষ রাস্তা থেকে সরিয়ে নিতে কর্তৃপক্ষ ক্রেন ব্যবহার করছে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, বাসটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া যাত্রীদের আসনগুলো মহাসড়কের পাশে ছিটকে পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং লরিটির পেছনের অংশে বাসের ভাঙা টুকরো আটকে ছিল।
আল-আহরামের সংবাদ অনুযায়ী, আহত পর্যটকদের উদ্ধার করে দ্রুত গিজা প্রদেশের একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে এবং সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। ঠিক কী কারণে এমন ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটল, তা উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনা বেশ নিয়মিত একটি ঘটনা। সাধারণত চালকদের অসতর্কতা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল এবং ট্রাফিক আইনের শিথিল প্রয়োগকেই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সরকারি পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্যমতে, গত এক বছরে দেশটিতে পথ দুর্ঘটনায় প্রায় ছয় হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে সিনাই উপত্যকায় একটি বাসের দুর্ঘটনায় ১০ জর্ডানিসহ ২২ জনের প্রাণহানি ঘটে। তারও আগে আগস্ট মাসে উত্তরাঞ্চলে কৃষিশ্রমিকদের বহনকারী দুটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ কমপক্ষে ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।