বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

প্রতিবন্ধী ইমাম হোসেনের পাশে দাঁড়ালেন ডা. জুবাইদা রহমান

জন্মগতভাবেই স্নায়বিক টিউমার বা প্লেক্সিফর্ম নিউরোফাইব্রোমা নামক এক বিরল জটিলতায় ভুগছিলেন আখাউড়ার এই বাসিন্দা।

প্রতিবন্ধী ইমাম হোসেনের পাশে দাঁড়ালেন ডা. জুবাইদা রহমান
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) সহসভাপতি ডা. জুবাইদা রহমানের একান্ত উদ্যোগে এক নতুন জীবনের দিশা পেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার হতদরিদ্র ও শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবক ইমাম হোসেন।

তাঁর সরাসরি নির্দেশনায় রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এক জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই রোগীর পিঠ থেকে প্রায় দুই কিলোগ্রাম ওজনের একটি বিশাল টিউমার সফলভাবে কেটে ফেলা হয়েছে।

জেডআরএফ-এর কর্মসূচি পরিচালক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে সংযুক্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ ওই হাসপাতালে গিয়ে রোগীর বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি চিকিৎসাধীন ইমাম হোসেনের চিকিৎসার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে তার পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জন্মগতভাবেই স্নায়বিক টিউমার বা প্লেক্সিফর্ম নিউরোফাইব্রোমা নামক এক বিরল জটিলতায় ভুগছিলেন আখাউড়ার এই বাসিন্দা। এক হতদরিদ্র দিনমজুর পিতার আট সন্তানের মধ্যে সপ্তম ইমাম হোসেন প্রায় সতেরো বছর আগে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। অর্থাভাবে সঠিক চিকিৎসা না হওয়ায় তার হাঁটাচলার ক্ষমতা প্রায় পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এর পাশাপাশি পিঠের টিউমারটি ক্রমশ বড় হতে থাকায় গত এক দশক ধরে তিনি ঠিকমতো ঘুমাতেও পারতেন না। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে দুবেলা দুমুঠো আহার জোগাড় করাই যার জন্য অসাধ্য ছিল, সেখানে এমন ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো তার পরিবারের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করা ইমাম হোসেনের একটি করুণ ভিডিও চিত্র ডা. জুবাইদা রহমানের নজরে আসে। বিষয়টি দেখে ব্যথিত হয়ে তিনি কালবিলম্ব না করে জেডআরএফ-এর পরিচালক ও অর্থোপেডিক সার্জন অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে ওই রোগীর যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ প্রদান করেন।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেয়ে ডা. আমান উল্লাহর তত্ত্বাবধানে ডা. এম আর হাসান অবিলম্বে রোগীর পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং তাকে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করান। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন আহমেদের সরাসরি অধীনে তার চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হয়।

রোগীর শারীরিক অবস্থার জটিলতা বিবেচনা করে একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এই বোর্ডে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট, ভাস্কুলার সার্জন এবং অর্থোপেডিক সার্জনরা যুক্ত ছিলেন। এই অভিজ্ঞ চিকিৎসক দলের নিবিড় তত্ত্বাবধানে গত ২৫ অক্টোবর প্রাথমিক পর্যায়ের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে তার শরীর থেকে সেই বড় আকারের টিউমারটি আলাদা করা হয়।

এ প্রসঙ্গে ডা. আমান উল্লাহ জানান, ধর্ম কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন অতীতেও যেমন অসহায় ও দুস্থ মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিল, আগামী দিনেও তাদের এই ধরনের মানবকল্যাণমুখী কাজ চলমান থাকবে।

ইমাম হোসেনের এই জটিল চিকিৎসায় অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালটির সহকারী অধ্যাপক ডা. অভিজিত সরকার, ডা. শাওন বিন রহমান, ডা. শাহীন, অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. তাজিন আহসান, সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. ফজলে রাব্বি, রেজিস্ট্রার ডা. সুলতান মাহমুদ সিকদার, আবাসিক সার্জন ডা. মো. শফিকুল আলম সুমন, নিউরোসার্জন ডা. রবার্ট আহমেদ খান এবং ডা. দেওয়ান সামসুল আসিফ প্রমুখ।