সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় জ্বালানি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র রাস তানুরায় আকস্মিক হামলার ঘটনায় গোটা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
উদ্ভূত এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বাজারে, যার ফলস্বরূপ বুধবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৪৮ সেন্ট অর্থাৎ ১ দশমিক ৩ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ১১৫ ডলার ৩৬ সেন্টে অবস্থান করছে। ঠিক একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দর ১ ডলার ২২ সেন্ট বা ১ দশমিক ২২ শতাংশ লাফিয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ১২ সেন্টে পৌঁছেছে।
গত মঙ্গলবার ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করে যে, তারা সৌদি আরবের ওই বৃহৎ তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। প্রতিদিন সাড়ে পাঁচ লাখ ব্যারেল জ্বালানি পরিশোধনে সক্ষম এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার বিষয়টি রিয়াদের পক্ষ থেকে সাথে সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে ইরান ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে বিরাজমান উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার যে নতুন শঙ্কা জেগেছে, মূলত সেটিই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
এর ঠিক আগের দিন মঙ্গলবার, কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা সফল হওয়ার আশায় সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছিল এবং তেলের দাম প্রায় ২ ডলার পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। কিন্তু নতুন করে হওয়া এই হামলার খবর বৈশ্বিক বাজারে পুনরায় ব্যাপক অস্থিরতা উসকে দিয়েছে।
পাশাপাশি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত সামান্য পরিমাণ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের ধারণা অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর সমাপ্ত হওয়া সপ্তাহে দেশটিতে তেলের রিজার্ভ আনুমানিক ১৫ হাজার ব্যারেল বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা মনে করছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতার পর রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ শোধনাগারগুলোতে ডিজেলের উৎপাদন বাড়ানো হতে পারে। এমনটি হলে আগামী মাসে কৃষ্ণসাগর ও বাল্টিক সাগরের বন্দরগুলো দিয়ে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল রপ্তানির পরিমাণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।