মঙ্গলবার, 27 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন সাবেক মডেল ও মিস সুইজারল্যান্ড বিয়াত্রিস কিউল। সোমবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের একটি প্রতিবেদনে তাঁর এই অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে হোয়াইট হাউজ অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন সাবেক মডেল ও মিস সুইজারল্যান্ড বিয়াত্রিস কিউল। সোমবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের একটি প্রতিবেদনে তাঁর এই অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে হোয়াইট হাউজ অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রতিবেদনটিতে ট্রাম্পের সঙ্গে কুখ্যাত শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সম্পর্ক এবং এপস্টেইনের অপরাধের সঙ্গে ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্তের বিবরণ রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ তুলেছিলেন কিউল। এবার তিনি দাবি করেছেন, ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন।

হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। মুখপাত্র অভিযোগগুলোকে ‘উন্মাদ ডেমোক্র্যাটদের একটি চরম দেউলিয়া প্রচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐতিহাসিক অর্জন এবং রিপাবলিকানদের ঊর্ধ্বমুখী গতি থেকে মার্কিন নাগরিকদের মনোযোগ সরাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউজ আরও বলেছে, এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয় থেকে ট্রাম্প ‘সম্পূর্ণ দায়মুক্ত’।

ডেমোক্র্যাটিক কমিটির কর্মীদের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরে সাক্ষাৎকারে কিউল জানান, ১৯৯৩ সালে ২৪ বছর বয়সে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা হয়। সে সময় হোটেলটির মালিক ছিলেন ট্রাম্প।

কিউলের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে (এনওয়াইইউ) ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি তোমার বিষয়টি দেখব।”

কিউল জানান, তাঁদের কথোপকথন শেষ করে ট্রাম্প সরে যাওয়ার পরপরই এপস্টেইন তাঁর কাছে আসেন। নিজেকে ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে কাছের বন্ধু’ পরিচয় দিয়ে তিনি কিউলকে মার-আ-লাগোতে একটি পার্টিতে আমন্ত্রণ জানান। এপস্টেইন তখন বলেছিলেন, “আমরা ডনের সঙ্গে অনেক পার্টি আয়োজন করি।”

ট্রাম্প অবশ্য শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ ওঠার অনেক আগেই এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, এপস্টেইনকে তিনি ‘লম্পট’ আখ্যা দিয়ে মার-আ-লাগো ক্লাব থেকে বের করে দিয়েছিলেন।

ডেমোক্র্যাটদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার ওই সংবাদ সম্মেলনের পর ট্রাম্পের এক প্রতিনিধি কিউলকে প্লাজা হোটেলের ওপরের তলায় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সুইটে দেখা করার আমন্ত্রণ জানান। কিউলের বর্ণনা অনুযায়ী, সেখানে প্রবেশের পরপরই ট্রাম্প পেছন থেকে তাঁকে জাপটে ধরেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

কিউলের দাবি, এ সময় তাঁর পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত, রক্তপাত ও কালশিটে দাগ দেখা দেয়।

ঘটনাটিকে ‘বর্বর’ আখ্যা দিয়ে কিউল জানান, হামলার পর ট্রাম্প তাঁকে বিছানার এক কোণে বসিয়ে আবারও ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি গোপন রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “[টিভি] শো চালিয়ে যেতেই হবে।”

এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিউল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ তুলেছিলেন। ছয় ফুট এক ইঞ্চি উচ্চতার সাবেক এই মডেল সে সময় বলেছিলেন, তাঁর লম্বা শারীরিক গঠনের কারণেই হয়তো তিনি আরও গুরুতর ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, কিউলের দীর্ঘদিনের এক বন্ধু নিশ্চিত করেছেন, প্রায় ২০ বছর আগেই কিউল তাঁকে ট্রাম্পের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের কথা জানিয়েছিলেন। বন্ধুটির দাবি, এত বছরেও কিউলের বর্ণনায় পরিবর্তন আসেনি।

তখন ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ক্যারোলিন লিভিট অভিযোগগুলোকে ‘ভুয়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

সদ্য প্রকাশিত ডেমোক্র্যাটদের প্রতিবেদনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তোলা আরও চার নারীর বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্লাজা হোটেলে আয়োজিত সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাকে ট্রাম্প ও এপস্টেইন তরুণীদের ফাঁদে ফেলার ‘শিকারের ক্ষেত্র’ হিসেবে ব্যবহার করতেন।

কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন বলেন, “পাঁচজন নারী সরাসরি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এপস্টেইনের উপস্থিতিতে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। মনে হচ্ছে প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করতে ট্রাম্পের বিচার বিভাগ এসব অপরাধ ধামাচাপা দিচ্ছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলো। ট্রাম্প নিজে এবারের নির্বাচনে কোনো আসনে প্রার্থী না হলেও এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক এবং ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর চাপ তৈরি করেছে।