শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের শর্তে ভারত সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে বাংলাদেশে ফিরিয়ে না দিলে ভারতের সাথে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে কঠোর মনোভাব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের শর্তে ভারত সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে বাংলাদেশে ফিরিয়ে না দিলে ভারতের সাথে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে কঠোর মনোভাব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তারেক রহমান জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে ঢাকায় হস্তান্তর করা না হলে তারেক রহমান ভারত সফর এবং আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে যোগদান করা থেকে বিরত থাকতে পারেন।

কূটনৈতিক নানা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে আয়োজিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের এই দৃঢ় অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেন। দীর্ঘ পৌনে এক ঘণ্টার সেই বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টির সুরাহা না হলে দিল্লির সফর পরিকল্পনা থেকে সরে আসবে ঢাকা।

পত্রিকাটির দাবি অনুযায়ী, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে ভারত সফরের যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের দায়িত্বে থাকার কারণে বাংলাদেশকে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

একই সময়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর প্রধান পরাগ জৈন ঢাকা সফর করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টার সাথে বৈঠক পরিচালনা করেন। সেখানেও ভারতের প্রতি ঢাকার কৌশলগত ও রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তনের বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে আসে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

যদিও বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে গঠনমূলক ও উন্নয়নমুখী করতে ভারত ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায়। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়—এমন কোনো জটিল সমস্যা নেই।

দ্য ট্রিবিউনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আসা এই জোরালো অবস্থান দিল্লির জন্য কিছুটা অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে কৌশলগত ভৌগোলিক কারণে এবং নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে উভয় পক্ষই বর্তমানে সমঝোতার পথ খুঁজছে। সেই সাথে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন ও মালয়েশিয়া সফরের দিকেও ভারত কড়া নজর রাখছে।

অন্যদিকে শেখ হাসিনার সাথে দিল্লির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকায় তাঁকে ফেরত পাঠাবে কি না, সে বিষয়ে ভারত এখনো নিজস্ব অবস্থানে অনড়। কিন্তু অতি সম্প্রতি শেখ হাসিনার দেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য দুই দেশের চলমান আলোচনাকে আরও কিছুটা জটিল করে তুলেছে বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখতে একটি শান্ত ও সহনশীল প্রতিবেশীর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ কেন্দ্রিক তৈরি হওয়া এই জটিলতা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই দুই প্রতিবেশী দেশের আগামী দিনের সম্পর্ক ও সার্বিক গতিপথ নির্ধারিত হতে যাচ্ছে।