রবিবার, 25 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

গণমাধ্যমের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে তুরস্কে ব্যাপক বিক্ষোভ

ইস্তাম্বুলের এশীয় অংশে আয়োজিত মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা কারাবন্দী সংবাদকর্মীদের ছবি প্রদর্শন করেন।

গণমাধ্যমের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে তুরস্কে ব্যাপক বিক্ষোভ
তুরস্কে সংবাদকর্মীদের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্যাতন, নির্বিচারে সাংবাদিক গ্রেপ্তার এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছেন দেশটির হাজার হাজার নাগরিক। রাজধানী আঙ্কারা ও অন্যতম প্রধান শহর ইস্তাম্বুলে আয়োজিত এসব বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের পাশাপাশি বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

২০১৬ সালের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে খর্ব করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অধিকারকর্মীদের মতে, স্বাধীন মতপ্রকাশ রোধ করতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা, ইন্টারনেট সেন্সরশিপ এবং ভুয়া খবর প্রচারের মতো অজুহাত দাঁড় করানো হচ্ছে।

ইস্তাম্বুলের এশীয় অংশে আয়োজিত মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা কারাবন্দী সংবাদকর্মীদের ছবি প্রদর্শন করেন। ক্ষুব্ধ জনতা এ সময় 'আমাদের আর নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ নেই', 'যথেষ্ট হয়েছে', 'আমাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না' এবং 'কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করব না' ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারার এই বিক্ষোভে প্রায় ছয় হাজার মানুষ যোগ দিয়েছেন। এদিকে তুরস্কের সাংবাদিক ইউনিয়নের পরিসংখ্যান বলছে, কেবল গত দুই মাসেই অন্তত ১১ জন সংবাদকর্মীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি মিডিয়া হাউসের সম্প্রচার বাতিল করা হয়েছে। সম্প্রতি জনপ্রিয় সংবাদভিত্তিক চ্যানেল 'হাল্ক টিভি'তে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে এর সম্প্রচার বন্ধ করে সেখানে সরকারি প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে সমকামিতার প্রচারণার অভিযোগ তুলে শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম 'টি২৪'-এর ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোও ব্লক করে দেয় সরকার।

ইস্তাম্বুলের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রবীণ কলামিস্ট জাফের আরাপকারলি জানান, এই আন্দোলন কেবল সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার জন্য নয়, বরং সমাজের অবাধ তথ্য ও সংবাদ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার লড়াই। নিজের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলার খড়গ থাকা এই সাংবাদিক মনে করেন, সংবাদমাধ্যম দখল, সাংবাদিকদের জেলে পাঠানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠী মূলত সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সঞ্চার করতে চাইছে। একই সুরে তুরস্কের সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রধান গোকহান দুরমুশ বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, দেশে এমন এক ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে যেখানে একটিমাত্র কেন্দ্র থেকে সব তথ্য নিয়ন্ত্রিত হবে এবং সবার কণ্ঠস্বর একই রকম হতে বাধ্য করা হবে।

অন্যদিকে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া গণমাধ্যম টি২৪-এর সংবাদকর্মী গোকচের তাহিনচিওগলু বলেন, সাংবাদিকরা কেবল স্বাধীনভাবে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সুযোগ চান। এছাড়া ওই সমাবেশে সিনকান কারাগারে বন্দী সাংবাদিক ইসমাইল আরির একটি খোলা চিঠি পড়ে শোনানো হয়। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, কেবল নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণেই তাকে বন্দিজীবন কাটাতে হচ্ছে। জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষার অঙ্গীকার করেন এবং প্রশাসনকে গণমাধ্যমের কাজে হস্তক্ষেপ না করে সংবিধান মেনে চলার আহ্বান জানান। তুরস্ক সরকার গণমাধ্যমকর্মীদের গ্রেপ্তারের এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে আসলেও প্রশাসনের এমন কঠোর দমননীতির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।