শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

দেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে আগ্রহী ইউএনডিপি

বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক কাঠামোর উন্নয়ন, সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ দেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।

দেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে আগ্রহী ইউএনডিপি

বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক কাঠামোর উন্নয়ন, সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ দেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিক্সের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।


বৈঠক শেষে মন্ত্রণালয় জানায়, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মাঝে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তুতি, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা, পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, সাইবার জগতে অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইন নিয়ে নিবিড় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে ইউএনডিপির প্রতিনিধি জানান যে, এই দীর্ঘ মেয়াদি ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কারিগরি সাহায্য দিতে প্রস্তুত তাঁদের সংস্থা।

আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো গঠনে ইউএনডিপির অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভবিষ্যতে সহায়তা আরও জোরদার করার কথা বলেন। রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রতিনিধি জানান, ক্যাম্পে পাহাড় ধস রোধ ও পরিবেশগত সুরক্ষায় তাঁরা নিয়মিত কাজ করছেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, ক্যাম্পগুলোতে চলমান কাঠামোর আধুনিকায়ন করা হলেও নতুন কোনো স্থায়ী স্থাপনা গড়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই।

পুলিশ সংস্কার প্রসঙ্গে স্টিফেন রড্রিক্স জানান, বাহিনীর পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, নাগরিক অধিকার রক্ষা ও সংঘাত নিষ্পত্তিতে সেন্সিটাইজেশন প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইউএনডিপি। অন্যদিকে সাইবার স্পেসে অপপ্রচার ও ডিজিটাল ঝুঁকি রোধে তথ্য প্রযুক্তি সংক্রান্ত যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়। মন্ত্রী এই প্রেক্ষাপটে সদ্য প্রণীত সাইবার সুরক্ষা আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার আহ্বান জানান।

আইনগত সংস্কার নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সর্বস্তরের মতামত ও ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে প্রস্তুত করা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং তা আসন্ন সংসদ অধিবেশনে উত্থাপিত হবে। এ ছাড়া বর্তমান মেয়াদে কোনো প্রকার গুম বা বিচারবহির্ভূত ঘটনার স্থান নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬ বাস্তবায়নে সরকারের কঠোর সংকল্পের কথা জানান। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ধর্মীয় সহনশীলতা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি সঠিকভাবে তুলে ধরতেও ইউএনডিপি যৌথভাবে কাজ করবে বলে বৈঠকে আশ্বস্ত করা হয়।