শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

প্রকল্পে সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

যেকোনো পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে তা মাঠপর্যায়ে রূপায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে শতভাগ স্বচ্ছতা, স্পষ্ট জবাবদিহিতা এবং রাষ্ট্রের সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার বজায় রাখতে হবে।

প্রকল্পে সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে কেবল বরাদ্দকৃত তহবিল শেষ করাই একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়, বরং প্রতিটি উদ্যোগের মধ্য দিয়ে জাতীয় অর্থনীতি চাঙ্গা করা, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নাগরিক কল্যাণ নিশ্চিত করার বাস্তব ফলাফল দেখাতে হবে। বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই মন্তব্য করেছেন।

তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, যেকোনো পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে তা মাঠপর্যায়ে রূপায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে শতভাগ স্বচ্ছতা, স্পষ্ট জবাবদিহিতা এবং রাষ্ট্রের সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার বজায় রাখতে হবে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতাভুক্ত করার লক্ষ্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের চলমান, অপেক্ষমাণ এবং নতুন প্রস্তাবিত উদ্যোগসমূহের অগ্রগতি মূল্যায়ন সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও স্পষ্ট করেন, রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে সরাসরি নতুন কারখানা গড়ে উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল সরকার এখন আর বেছে নিচ্ছে না। শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও মূলধনী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো হবে। তবে পরিস্থিতি ও প্রাসঙ্গিকতার বিচারে রাষ্ট্র সেখানে কেবল অংশীদার বা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে সম্পৃক্ত হতে পারে।

উক্ত আলোচনায় নির্ধারিত সময়সীমা, অনুমোদিত বাজেট এবং কাজের সঠিক মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি মত প্রকাশ করেন যে, উদ্যোগ গ্রহণের বেলায় শুধু মোট অর্থবরাদ্দ বা খরচের অঙ্কের দিকে তাকালে চলবে না; এর থেকে প্রাপ্ত ফলাফল, তা বাস্তবায়নের বাস্তবতা এবং সুদূরপ্রসারী উপযোগিতা গভীরভাবে বিবেচনা করা জরুরি। সর্বসাধারণের রাজস্বে পরিচালিত প্রতিটি কর্মকাণ্ডের সুফল যেন সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি, আর্থিক তদারকি, উৎপাদন সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি উপযোগিতা নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, জরাজীর্ণ ইউনিটগুলোর আধুনিকায়ন, বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বের সম্ভাবনা এবং চলমান উদ্যোগগুলোর বর্তমান অবস্থা যাচাই করা হয়।

পরবর্তী অংশে বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে পর্যালোচনা হয়। সেখানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম মন্তব্য করেন, দেশের এই ঐতিহ্যবাহী খাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে হলে সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং বিপণন পরিধি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। শিল্পের নিজস্ব ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ন রেখেই যুগোপযোগী ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটাতে হবে।

আলোচনায় দেশের বুননশিল্পের বিকাশ ও ঐতিহ্য রক্ষার দিকটিও বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। তাঁতশিল্পীদের জন্য সহজ শর্তে মূলধন জোগান, তৈরি পণ্যের বিপণন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার সুযোগ সম্প্রসারণের তাগিদ দেওয়া হয়। স্বল্প সুদে আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে তাদের উৎপাদন ও বাণিজ্যের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঐতিহ্যমণ্ডিত সামগ্রীর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টির সমন্বিত পদক্ষেপের কথা উঠে আসে।

এছাড়া টাঙ্গাইল শাড়ি এবং ঐতিহাসিক মসলিনের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। টাঙ্গাইল শাড়ির দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিপণন ব্যবস্থা জোরদার করা এবং মসলিন পুনরুজ্জীবনে সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় গবেষণা, উৎপাদন ও বিশ্ববাজার তৈরির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উচ্চপর্যায়ের এই পর্যালোচনা সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিববৃন্দ, পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং প্রকল্প পরিচালকরা অংশ নেন।