বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

আবারও দেশে হাম পরীক্ষার কিটসংকট

হাম সংক্রমণ বাড়ার মধ্যে দেশে রোগ শনাক্তের পরীক্ষায় আবারও বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় কিটের অভাবে পর্যাপ্ত নমুনা পরীক্ষা করতে পারছে না সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, ফলে সারা দেশ থেকে আসা হাজারো নমুনা ল্যাবে জমে আছে।

আবারও দেশে হাম পরীক্ষার কিটসংকট

হাম সংক্রমণ বাড়ার মধ্যে দেশে রোগ শনাক্তের পরীক্ষায় আবারও বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় কিটের অভাবে পর্যাপ্ত নমুনা পরীক্ষা করতে পারছে না সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, ফলে সারা দেশ থেকে আসা হাজারো নমুনা ল্যাবে জমে আছে।

বাংলাদেশে হাম শনাক্তের পরীক্ষা একমাত্র জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাগারেই করা হয়। মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জানা যায়, কিটের ঘাটতির কারণে দৈনিক পরীক্ষার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা সীমিত সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. মোমিনুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা দৈনিক এক শর মতো নমুনা পরীক্ষা করতে পারছি।’ এর বাইরে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

কিট সংকট বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তাকে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

ল্যাব সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে আসা প্রায় পাঁচ হাজার রোগীর নমুনা পরীক্ষার অপেক্ষায় জমা রয়েছে। কিটের অভাবে পরীক্ষা ধীরগতিতে চলছে, আর নতুন করে নমুনা আসতে থাকায় জট আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে সারা দেশে হাম ছড়িয়ে পড়ায় রোগ শনাক্তের পরীক্ষার চাহিদাও বেড়েছে। হামের উপসর্গ দেখা দিলে অভিভাবকেরা নিশ্চিত হওয়ার জন্য শিশুদের পরীক্ষা করাতে আগ্রহী হচ্ছেন। একই সঙ্গে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা এবং রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়ার আগে নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজনেও এই পরীক্ষার গুরুত্ব বেড়েছে। তবে পরীক্ষার ফলাফল পেতে বিলম্ব হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের হাসপাতালে থাকার সময় বাড়ছে।

'হামের এই প্রাদুর্ভাবের সময় রোগ শনাক্তের কিট না থাকা দুর্ভাগ্যজনক। স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঢাকা অফিস ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করলে এমন পরিস্থিতি হতো না। দায়ভার তারা এড়াতে পারে না।'

— আবু জামিল ফয়সাল, জনস্বাস্থ্যবিদ

এর আগে গত মাসেও একই ধরনের সংকটে পড়েছিল জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান। ১৯ এপ্রিল পরিচালক মো. মোমিনুর রহমান জানিয়েছিলেন, হাম শনাক্তের কিট সরবরাহ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং তাদের সরবরাহ করা কিট ছাড়া অন্য কোনো উৎসের কিট ব্যবহার করা হয় না। একটি কিট দিয়ে ৯০টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব এবং প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক ৩০০ নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৬০টি কিট সরবরাহ করেছিল। এরপর ৩০ এপ্রিল বা ১ মে আরও ১০০টি কিট দেওয়ার কথা থাকলেও তা সরবরাহ করা হয়নি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ১০০টি কিট দেড় থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যাবে।

একই সঙ্গে সংস্থাটির ওই কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয় (দিল্লি) থেকে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশে ৩০টি কিট পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা এক সপ্তাহের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কিট সংগ্রহ ও সরবরাহে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে। এমন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল বলে তারা মনে করছেন।

উল্লেখ্য, সম্ভাব্য সংকটের কথা বিবেচনায় নিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে ৬০টি কিট চেয়ে চিঠি দিয়েছিল। তবে সেই কিট পৌঁছাতে সময় লাগে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত।

এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘হামের এই প্রাদুর্ভাবের সময় রোগ শনাক্তের কিট না থাকা দুর্ভাগ্যজনক। স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঢাকা অফিস ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করলে এমন পরিস্থিতি হতো না। দায়ভার তারা এড়াতে পারে না। এমন পরিস্থিতি এড়াতে কিটের বিকল্প উৎস কী হতে পারে, তা খুঁজে বের করতে হবে।’