চিফ প্রসিকিউটর সাম্প্রতিক একটি স্মরণসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের সূত্র ধরে বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনটি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারই তৈরি করেছিল। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে এই আইনের অধীনেই ট্রাইব্যুনাল গঠন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর পর ২০১৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে এই আইনে সংশোধন এনে অপরাধী হিসেবে কোনো সংস্থাকে বিচারের আওতায় আনার বিধান যুক্ত করা হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন পাস করে, যেখানে ব্যক্তির পাশাপাশি যেকোনো সংগঠনের বিচার করার আইনি ভিত্তি রাখা হয়েছে। এই আইনের ১৮ ধারা প্রয়োগ করেই বিগত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল তৎকালীন সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করেন যে, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ বা দলগত অপরাধের বিচারের এই পুরো আইনি পথটি আওয়ামী লীগ নিজেই তাদের শাসনকালে তৈরি এবং পরিমার্জন করে গেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩-এর আওতায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফলশ্রুতিতে, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাদের তৈরি করা আইনগুলোই কার্যকর ভূমিকা রাখবে।