পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। বাজারে সিন্ডিকেট ও কারসাজি ঠেকাতে এবার আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে এআইভিত্তিক নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সোমবার (১১ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ট্রাকসেল কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজার পরিস্থিতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে নির্বাচিত কিছু নিত্যপণ্যের জন্য কৌশলগত মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, গত বছরের কুরবানির ঈদে প্রায় ১০ হাজার ৯০০ টন খাদ্যপণ্য বিতরণ করা হয়েছিল। এবার সেই পরিমাণ বাড়িয়ে প্রায় ১৪ হাজার টনে উন্নীত করা হচ্ছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশেষ উৎসব বা প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম চালু রাখা হবে। পাশাপাশি ভর্তুকিমূল্যে খাদ্যপণ্য সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।
তিনি জানান, আগের উপকারভোগীর তালিকা পর্যালোচনায় প্রায় ৫৯ লাখ ভুয়া বা প্রশ্নবিদ্ধ নাম পাওয়া গেছে। পরে নতুন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তালিকা হালনাগাদ করে বর্তমানে ৮০ লাখ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ২০ লাখ মানুষকে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকিমূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া। এ উদ্দেশ্যে টিসিবির মাধ্যমে সারা দেশে নিয়মিতভাবে ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রি এবং উৎসবকেন্দ্রিক ট্রাকসেল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।