রাজনীতি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যম নয়, বরং এটি জনগণের সেবা করার একটি মহৎ পথ এবং বিএনপি সবসময় রাষ্ট্রের প্রয়োজনে রাজনীতি পরিচালনা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, আজকের এই মুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের যে মজবুত ভিত্তি, তা মূলত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনন্য অবদানের মাধ্যমেই নির্মিত হয়েছে।
সোমবার বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় আয়োজিত এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আতীতের রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থার সমালোচনা করে শেখ রবিউল আলম বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এদেশের মাটিতে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিল, যার সাথে পাকিস্তানের শাসক ইয়াহিয়ার কোনো তফাত ছিল না। সেই অন্ধকার পরিস্থিতি থেকে দেশকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার ফিরিয়ে এনেছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সাধারণ মানুষের জন্য একটি উপযুক্ত ও সময়োপযোগী জাতীয়তাবাদী দর্শন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি এই রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন। আজ হয়তো সেই মহান নেতা সশরীরে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর সুদূরপ্রসারী আদর্শ ও দর্শনের লক্ষ লক্ষ সৈনিক দেশের প্রতিটি প্রান্তে সজাগ রয়েছেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংকটের কথা মনে করিয়ে দিয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, দেশের সংকট কিন্তু এখনও পুরোপুরি কেটে যায়নি। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকারী এবং পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনও ভেতরে ভেতরে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। অতীতের নজির টেনে তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন সময়েও ভোট পাওয়ার জন্য ভিক্ষা চাওয়া হয়েছিল। এমনকি এবারের নির্বাচনেও জামায়াতে ইসলামী দেশের মানুষের কাছে বিগত ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত তাদের সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে ভোট চেয়েছে। কিন্তু গৌরবময় ইতিহাসের কারণে বিএনপিকে কখনও জনগণের কাছে এই ধরনের ক্ষমা চাইতে হয়নি, যার ফলে দেশের মানুষ যখনই স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, জনগণের সুনির্দিষ্ট রায়ের ভিত্তিতে গঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তী বা নতুন সরকারের ওপর এদেশের আপামর জনসাধারণের পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। সাধারণ মানুষের সেই প্রত্যাশা ও জনআকাঙ্ক্ষার যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে বর্তমান প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করাই হোক এই শাহাদাৎ বার্ষিকীর মূল অঙ্গীকার।