শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

তারেক রহমানের সফর নিয়ে ঢাকার শর্ত 'রূঢ় ও অহংকারী': বীণা সিক্রি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি যুক্ত করায় বাংলাদেশের সমালোচনা করেছেন ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক অবস্থানকে তিনি ‘অত্যন্ত রূঢ়’ ও ‘অহংকারী’ বলে মন্তব্য করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমানের সফর নিয়ে ঢাকার শর্ত 'রূঢ় ও অহংকারী': বীণা সিক্রি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি যুক্ত করায় বাংলাদেশের সমালোচনা করেছেন ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক অবস্থানকে তিনি ‘অত্যন্ত রূঢ়’ ও ‘অহংকারী’ বলে মন্তব্য করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

বীণা সিক্রির মতে, তারেক রহমানের ভারত সফরের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে একই ইস্যু হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা বিস্ময়কর। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে অনভিপ্রেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, এ ধরনের বক্তব্যে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের বিষয়ে ঢাকার আন্তরিকতার ঘাটতিই প্রকাশ পাচ্ছে।

ভারতের সাবেক এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথম বিদেশি নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। নয়াদিল্লির প্রত্যাশা ছিল, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে ভারতকে বেছে নেবেন।

তবে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ওই আমন্ত্রণের বিষয়ে ঢাকা আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেয়নি বলে দাবি করেন বীণা সিক্রি। এমনকি কয়েক সপ্তাহ আগে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে দেওয়া দ্বিতীয় আমন্ত্রণের বিষয়েও বাংলাদেশের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবিকে তারেক রহমানের ভারত সফরের শর্ত হিসেবে দেখানোর সমালোচনা করে বীণা সিক্রি বলেন, ‘প্রত্যর্পণ একটি দীর্ঘমেয়াদী আইনি প্রক্রিয়া, যা সম্পন্ন হতে বছরের পর বছর সময় লাগতে পারে। বাংলাদেশ সরকার এটি ভালো করেই জানে। তাহলে কি তারেক রহমান আগামী কয়েক বছর ভারতে আসতে চান না?’

তিনি আরও বলেন, দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরের প্রস্তুতির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। সেই সুযোগ কাজে না নিয়ে এ ধরনের অযৌক্তিক ও অপেশাদার শর্ত দেওয়া অপ্রয়োজনীয় এবং কূটনৈতিক রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

উল্লেখ্য, গত রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম জানিয়েছিলেন, সফরের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে শেখ হাসিনাসহ পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতির ঘটনাও সফরের পরিবেশকে ব্যাহত করেছে বলে ঢাকা দাবি করে।

তবে ভারত সরকার ইতোমধ্যে জানিয়েছে, ওই সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যমের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল বলেও ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

বীণা সিক্রির ভাষ্য, দুই দেশের সরকার যখন প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর এ ধরনের প্রচার-প্রচারণা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে। বাংলাদেশ যদি সত্যিই সফরটি গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নিতে চায়, তাহলে এ ধরনের ‘কৌশল’ পরিহার করে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে তাঁর একটি উন্মুক্ত প্রেস অনুষ্ঠানে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানায় এবং বিষয়টি তারেক রহমানের ভারত সফরের সঙ্গে যুক্ত করার ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদেরও হস্তান্তরের জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

অন্যদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনো সফরের কোনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।