মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা প্রসারের অঙ্গীকার নিয়ে আজ ৩ মে, রবিবার সারা দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন: মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সাংবাদিক সমাজ তাদের পেশাগত অধিকার রক্ষা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করছে।
ইউনেস্কোর সুপারিশক্রমে ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ৩ মে তারিখটিকে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। সেই থেকে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মৌলিক নীতিমালা মূল্যায়ন, গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ রোধে শপথ গ্রহণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে আত্মত্যাগকারী সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আজ বিশেষ র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। সকাল ৯টায় অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া র্যালিটি তথ্য ভবন কমপ্লেক্সে গিয়ে শেষ হবে। এরপর তথ্য ভবন কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তথ্য অধিদফতর জানায়, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে, দিবসটির প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আরও অবনতির খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) প্রকাশিত ২০২৬ সালের সূচকে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ পিছিয়ে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৫২তম। আগের বছর এ অবস্থান ছিল ১৪৯তম। সংস্থাটির মূল্যায়নে বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিস্থিতি এখনো ‘গুরুতর’ পর্যায়ে রয়েছে।
আরএসএফ-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের মূলধারার সংবাদে প্রবেশাধিকার সীমিত হলেও তথ্য বিনিময়ে ইন্টারনেটের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান ১৫৭তম এবং পাকিস্তান ৫ ধাপ এগিয়ে ১৫৩তম স্থানে রয়েছে। এছাড়া এ অঞ্চলে নেপাল ও শ্রীলঙ্কা যথাক্রমে ৮৭ ও ১৩৪তম অবস্থানে রয়েছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বরাবরের মতোই সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে, আর তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়া। রাজনৈতিক চাপ, আইনি সুরক্ষা, অর্থনৈতিক পরিবেশ, সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা—এই পাঁচটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে আরএসএফ প্রতি বছর এই সূচক প্রণয়ন করে থাকে। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের আইনি সুরক্ষা ও নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জগুলোই মূলত সূচকে এই পিছিয়ে পড়ার পেছনে কাজ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।