শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত-বিএনপির ধাওয়া পালটা ধাওয়া, আহত ৬

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দর্শনা থানার বেগমপুর ইউনিয়নের উজলপুর গ্রামে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন এবং দুই দলের নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত-বিএনপির ধাওয়া পালটা ধাওয়া, আহত ৬
মারধরে আহত একজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দর্শনা থানার বেগমপুর ইউনিয়নের উজলপুর গ্রামে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন এবং দুই দলের নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জামায়াতে ইসলামী সূত্রে জানা গেছে, আহত দুই নেতা হলেন—দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান (৩২) এবং দর্শনা পৌর শ্রমিক কল্যাণ সেক্রেটারি হাসান তারেক (২৭)। তারা রাতেই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে আহত তিনজন সমর্থকের নাম জানা গেছে—স্থানীয় বাসিন্দা মুজিবর রহমান, জুনায়েদ হোসেন এবং আশিক।

বেগমপুর ইউনিয়নের জামায়াতের আমির মোশাররফ হোসেন বলেন, “রাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল করছিলেন। আমাদের উজলপুর নির্বাচনী অফিসের সামনে এসে কয়েকজন সমর্থক মদ্যপ ও অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় নাচানাচি ও মাতলামো করছিলেন। আমাদের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করলে তারা চড়াও হয়। এরপর আমরা ঘটনাস্থলে গেলে আমাদের দুজনকে বেধড়ক মারধর করে। এছাড়া আমাদের অফিসের চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। বিএনপির অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ সত্য নয়।”

বিএনপির দর্শনা থানা দপ্তর সম্পাদক আসলাম হোসেন বলেন, “রাতে শান্তিপূর্ণ মিছিল বের হয়। মিছিলে কয়েকজন সমর্থক স্লোগান দিতে গিয়েছিলেন। তখন উজলপুর জামায়াতের নেতাকর্মীরা আমাদের সমর্থকদের ‘মেথর’ বলে সম্বোধন করেন। এ নিয়েই সামান্য উত্তেজনা তৈরি হয়। এতে আমাদের তিনজন আহত হন এবং আমাদের অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। জামায়াতের অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ মিথ্যা, আমরা কাউকে মারধর করিনি।”

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আল ইমরান জুয়েল জানিয়েছেন, রাত ১২টার দিকে মেহেদী হাসান ও হাসান তারেক আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। একজনের মাথায় এবং অপরজনের বাম চোখের নিচে আঘাত দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, শক্ত কাঠজাতীয় কোনো জিনিস দ্বারা আঘাত হয়েছে। রাতেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তারা বাড়ি ফিরেছেন।

দর্শনা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, “জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে জামায়াতের দু’জন ও বিএনপির একজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে জামায়াতের অফিসে একটি চেয়ার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।”