ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রকাশ্য বক্তব্য ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। তার দাবি, প্রকাশ্যে এক অবস্থান নিলেও দলটি গোপনে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে নরসিংদীর পুলিশ লাইন্স এলাকায় অনুষ্ঠিত এক বৃহৎ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
চরমোনাই পীর বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা হওয়া অস্বাভাবিক নয়, তবে সেই বৈঠকগুলো কেন গোপনে করা হচ্ছে—এ প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও উঠেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই গোপনীয়তার আড়ালে কোনো অশুভ উদ্দেশ্য বা ষড়যন্ত্র লুকিয়ে থাকতে পারে, যা দেশের সচেতন জনগণ ইতোমধ্যেই অনুধাবন করেছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আর কাউকে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। ইসলামী আন্দোলন একা নয় উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, আলেম-ওলামা ও সর্বস্তরের মানুষ তাদের শক্তির প্রধান ভরসা।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট না করার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলটি যখন ক্ষমতার ভাগাভাগি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামো টিকিয়ে রাখার নীতিতে অগ্রসর হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়, তখন ইসলামী আন্দোলন বাধ্য হয় ভিন্ন পথে হাঁটতে। ইসলামের আদর্শ অক্ষুণ্ন রাখা এবং মানবকল্যাণের লক্ষ্যে দলটি ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে এককভাবে নির্বাচনী মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি। তার মতে, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়তে ইসলামী আন্দোলন দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নরসিংদী সদর আসনের প্রার্থী ও জেলা শাখার সভাপতি আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই জনসভায় দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা সবাই আসন্ন নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।