শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ডিএনসিসির অর্থনৈতিক অবস্থার বেহাল দশা: প্রশাসক শফিকুল

বেহাল অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্য দিয়েই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) দায়িত্ব নিলেন নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

ডিএনসিসির অর্থনৈতিক অবস্থার বেহাল দশা: প্রশাসক শফিকুল
ছবিঃ সংগৃহীত

বেহাল অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্য দিয়েই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) দায়িত্ব নিলেন নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি করপোরেশনের বর্তমান নাজুক আর্থিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন।

প্রশাসক জানান, উত্তর সিটি করপোরেশনের কোষাগার বর্তমানে প্রায় শূন্য। তিনি বলেন, সাবেক প্রশাসক জাতীয় নির্বাচনের ঠিক দুদিন আগে শেষ অফিস করার সময়ও ৩৪টি ফাইলে স্বাক্ষর করে গেছেন। বর্তমানে করপোরেশনের ফান্ডে মাত্র ২৫ কোটি টাকা অবশিষ্ট আছে, অথচ প্রতি মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদই খরচ হয় ১৩ কোটি টাকা। এই স্বল্প অর্থ দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আগে থেকেই ১৪৭০ কোটি টাকার টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে রাখায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

তবে এমন প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও আশার কথা শুনিয়েছেন প্রশাসক। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা হতাশ নই। জনকল্যাণে সেবার যে অঙ্গীকার আমাদের আছে, তা বাস্তবায়নে আমরা প্রস্তুত।’

আগামী দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, ডিএনসিসির আওতাধীন ২৯টি খালে পুনরায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও খননকাজ শুরু করা হবে। বর্ষার আগে পানিপ্রবাহ সচল রাখা এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতের অনিয়ম কাটিয়ে নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এই কাজগুলো পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

খাল ও সরকারি জমি দখলদারদের বিষয়ে প্রশাসক জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে ছিন্নমূল বা নিম্ন আয়ের মানুষদের ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে বিকল্প বাসস্থান বা ক্ষতিপূরণের সহজ পথ খোঁজা হবে। দায়িত্ব পালনে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের ইতিবাচক সহযোগিতা কামনা করেন।