বৃহস্পতিবার, 22 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

প্রধানমন্ত্রী আমাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে সেরা পরামর্শটি দিয়েছিলেন: ইশরাক

নিজের ফেসবুক পোস্টে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার সন্তান ইশরাক উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশকে শুরুতে শাস্তিমূলক মনে হলেও পরবর্তীতে তিনি এর পেছনের গভীর কারণ অনুধাবন করতে পেরেছেন।

প্রধানমন্ত্রী আমাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে সেরা পরামর্শটি দিয়েছিলেন: ইশরাক
ঢাকা-৬ আসনের সদ্যসাবেক সংসদ সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, মন্ত্রিসভা ছাড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া নির্দেশটি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে চমৎকার পরামর্শ। বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ না করে তিনি সেই নির্দেশ মাথা পেতে নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি এই কথা জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর বিকেলে গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি অভিযানের বেশ কিছু ভিডিও নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন তিনি। ওইসব ভিডিওর একটিতে রেললাইনের পাশের এলাকায় তাঁকে ও তাঁর এক সঙ্গীকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যায়। এছাড়া পুলিশ কর্তৃক কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও সেখানে দৃশ্যমান ছিল। একজন জনপ্রতিনিধির প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে এমন অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে চারদিকে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এর পরপরই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পদত্যাগের ডাক আসে এবং ১৯ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি স্বেচ্ছায় নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

নিজের ফেসবুক পোস্টে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার সন্তান ইশরাক উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশকে শুরুতে শাস্তিমূলক মনে হলেও পরবর্তীতে তিনি এর পেছনের গভীর কারণ অনুধাবন করতে পেরেছেন। তিনি দাবি করেন, একটি নির্দিষ্ট গণমাধ্যম ও স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে ভয়ংকর চক্রান্তের জাল বুনেছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল ধারাবাহিকভাবে ভিত্তিহীন ও নেতিবাচক সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে তাঁর সম্মানহানি করা, দেশবাসীর কাছে তাঁকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং দলের শুভাকাঙ্ক্ষী শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে তাঁকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া।

সদ্য পদত্যাগ করা এই নেতা আরও জানান, চক্রান্তকারীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি করা, যার ফলে তাঁর গোটা রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের হয়তো অকাল সমাপ্তি ঘটত। অতীতেও যে এই একই চক্র তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সেই বিষয়টি স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দেন। ইশরাক নিজেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একজন নিঃশর্ত অনুসারী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ছোট ভাইয়ের মতোই অত্যন্ত স্নেহ করেন এবং সবসময় তাঁর মঙ্গলের কথা চিন্তা করেন। নিজের রাজনৈতিক জীবনে তিনি বারবার এই স্নেহের প্রমাণ পেয়েছেন বলেও ওই পোস্টে উল্লেখ করেন।