কুমিল্লা-চার আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ মন্তব্য করেছেন যে, বড়মাপের কোনো অপরাধ সংঘটনের পর কেবল পদত্যাগ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমান সরকার অভিযুক্তদের অব্যাহতি দিয়ে যে কৌশল অবলম্বন করছে, সেটিকে তিনি সাময়িক উপশম বা শর্ট টাইম প্যারাসিটামল থেরাপির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, ফৌজদারি প্রকৃতির অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার রাত আনুমানিক দশটার দিকে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলাধীন এলাহাবাদ ইউনিয়নে শারদীয় দুর্গাপূজার একটি মণ্ডপ পরিদর্শনের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি এক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে চিকিৎসাকেন্দ্র ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠার পর তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অব্যাহতি প্রদান কোনোভাবেই শাস্তির বিকল্প হতে পারে না। যেকোনো বেআইনি কার্যকলাপের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিকে বিচারের সম্মুখীন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ সময় তিনি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একজন প্রতিমন্ত্রীর সশস্ত্র অবস্থায় রাজপথে নামার ঘটনাকে তিনি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার চরম অবনতি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূলের মূল দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনে তারা এতটাই ব্যর্থ হয়েছেন যে, খোদ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নামতে হয়েছে, যা জাতির জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিজেদের কাজ সঠিকভাবে পালন করলে প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে এমন পদক্ষেপ নিতে হতো না। উল্টো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ব্যর্থতার দায়ভার ইশরাকের কাঁধে চাপানোর চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, উৎকোচ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভূমি দখলের মামলায় দণ্ডিত একজন ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। তার ব্যর্থতার কারণেই আজ অন্য একজন প্রতিমন্ত্রীকে মাদক নিয়ন্ত্রণের মতো কাজে সশস্ত্র ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমজনতার হাতে আত্মরক্ষার কোনো হাতিয়ার নেই, এমতাবস্থায় তারা কীভাবে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। এই চরম অব্যবস্থাপনার দায় স্বীকার করে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিমন্ত্রীর একটি ছবির বিষয়েও আলোকপাত করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জানান, ওই ছবিতে প্রতিমন্ত্রীর ঠিক পেছনে পাভেল নামক এক ব্যক্তিকে অবৈধ বা লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা গেছে। অবিলম্বে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানান তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতা শেষে ওই রাতেই তিনি দেবিদ্বার উপজেলার আরও কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন।