মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

জনপ্রিয়তা তলানিতে, ট্রাম্পের প্রতি অসন্তুষ্ট ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক

মূলত দ্রব্যমূল্য তথা জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতি, দুর্বল অর্থনৈতিক চালচিত্র এবং ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণেই সাধারণ ভোটাররা তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিলেছে।

জনপ্রিয়তা তলানিতে, ট্রাম্পের প্রতি অসন্তুষ্ট ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিচালিত রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধসের চিত্র উঠে এসেছে। জরিপের তথ্যমতে, ট্রাম্পের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন কমে রেকর্ড ৩১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যার অর্থ প্রায় ৬৯ শতাংশ নাগরিকই তার ওপর অসন্তুষ্ট।

মূলত দ্রব্যমূল্য তথা জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতি, দুর্বল অর্থনৈতিক চালচিত্র এবং ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণেই সাধারণ ভোটাররা তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিলেছে।

সোমবার ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত চার দিনব্যাপী এই জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থন আরও এক শতাংশীয় পয়েন্ট কমে গেছে। ক্ষমতায় থাকা তার দুই মেয়াদের মধ্যে এটিই সবচেয়ে কম জনসমর্থনের রেকর্ড। আসন্ন নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ৪৭ ভাগ নিবন্ধিত ভোটার ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৫ ভাগ রিপাবলিকানদের পক্ষে তাদের রায় দিয়েছেন। এর ফলে ডেমোক্রেটিক পার্টি ১২ শতাংশীয় ব্যবধানে এগিয়ে গেল, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল মাত্র ৭ পয়েন্ট। সে সময় ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ৪৪ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের পক্ষে ৩৭ শতাংশ সমর্থন ছিল।

সার্বিক জনসমর্থনের এই পরিসংখ্যানে ডেমোক্র্যাটরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, কেবল জাতীয় জরিপ দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের চূড়ান্ত ফলাফল নিরূপণ করা নিশ্চিতভাবে সম্ভব নয়। কারণ সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে স্থানীয় এবং রাজ্যভিত্তিক সমীকরণগুলোই জয়-পরাজয়ে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। তবে আসন্ন মধ্যবর্তী এই নির্বাচনে রিপাবলিকান শিবির যদি কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের আধিপত্যও হারায়, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবশিষ্ট মেয়াদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নের পথ চরম হুমকির মুখে পড়বে।

ভোটারদের জনমিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নারীদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ঝোঁক তুলনামূলক অনেক বেশি। প্রায় অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ নারী ভোটার ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যেখানে রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছেন মাত্র ৩২ শতাংশ নারী। পুরুষদের ভেতরেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে আছেন, তবে সেখানে দুই দলের ব্যবধান কিছুটা কম। এদিকে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের দক্ষতার ওপর অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন প্রায় ৬৮ শতাংশ আমেরিকান। উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, এই অসন্তুষ্ট অংশের মধ্যে ৩৭ ভাগ মানুষ নিজেদের রিপাবলিকান সমর্থক হিসেবেই পরিচয় দিয়েছেন। অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে কোন দল বেশি নির্ভরযোগ্য, এমন প্রশ্নের জবাবে ৪০ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাট এবং ৩৩ শতাংশ রিপাবলিকানদের প্রতি আস্থা রেখেছেন।

একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এবং পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খরচের বোঝা বেড়ে যাওয়াও বর্তমান প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা যায়, সম্পূর্ণ অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন মোট এক হাজার ৬৭৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক, যাদের মধ্যে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন এক হাজার ২৭৯ জন। এই সমীক্ষায় সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে দুই শতাংশীয় পয়েন্ট এবং নিবন্ধিত ভোটারদের বেলায় তিন শতাংশীয় পয়েন্ট পর্যন্ত ত্রুটির মাত্রা ধরা হয়েছে। সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভ ও হতাশা ব্যালট বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলে দেবে, তবে বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে, নির্বাচনের মাঠে ট্রাম্প এবং তার দলের জন্য এক অত্যন্ত কঠিন পথ অপেক্ষা করছে।