সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ফ্রান্সের পর ইতালিতেও বিক্ষোভ, আহত ১৪১ পুলিশ, গ্রেপ্তার ১৯৭

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম বাড়া এবং করের বোঝা নিয়ে অসন্তোষ থেকে ফ্রান্সের পর ইতালির বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৪১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিক্ষোভের ঘটনায় ১৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ফ্রান্সের পর ইতালিতেও বিক্ষোভ, আহত ১৪১ পুলিশ, গ্রেপ্তার ১৯৭

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম বাড়া এবং করের বোঝা নিয়ে অসন্তোষ থেকে ফ্রান্সের পর ইতালির বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৪১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিক্ষোভের ঘটনায় ১৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ইতালির সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সহিংসতা, পুলিশকে কাজে বাধা দেওয়া এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পরদিন রোববার আরও ১৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৪৩ জনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

‘ইতালিয়া ইন পিয়াজ্জা’ ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভে দেশটির বিভিন্ন শহরের মানুষ অংশ নেন। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, মিলানে প্রায় ৫ হাজার, তুরিনে ৩ হাজার, বোলোনিয়ায় ২ হাজার, বেরগামোতে ৮০০ এবং ব্রেসিয়ায় ৬০০ জন বিক্ষোভ করেন।

মিলানে বিক্ষোভের একপর্যায়ে কয়েকটি দল পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল ও আতশবাজি নিক্ষেপ করে। এ সময় ব্যারিকেডও ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। একই সময়ে শহরের বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ইতালির সামরিক পুলিশ বাহিনী কারাবিনিয়েরির একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।

মিলানে বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের সংগঠন কনফেকমেরচিওর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনের বিক্ষোভে দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঁচ লাখ ইউরোর বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তুরিনে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া পেট্রলবোমা বহনের অভিযোগে তিন অপ্রাপ্তবয়স্ককে আটক করেছে পুলিশ। বোলোনিয়ায় রেলস্টেশনের কাছে সংঘর্ষের ঘটনায় আরও পাঁচ অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেখানে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল ও ব্যারিকেড নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। সহিংসতার নিন্দা জানাতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া হাজারো মানুষ শান্তিপূর্ণভাবেও তাঁদের দাবি তুলে ধরেছেন।

ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি জানিয়েছেন, তাঁর দল লিগ পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পুনরায় উত্থাপন করবে। প্রস্তাবে ঝুঁকিপূর্ণ বিক্ষোভের আয়োজকদের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি পূরণের জন্য আর্থিক নিশ্চয়তা দেওয়ার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে।

মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের অসন্তোষের কারণ বোঝা গেলেও পুলিশের ওপর হামলা এবং শহরের সম্পদ নষ্ট করার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। অন্যদিকে, বোলোনিয়ার মেয়র মাত্তেও লেপোরেও সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিক্ষোভের নামে সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।