গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের এক্সারখিয়া এলাকায় একের পর এক আবাসিক ভবন কিনছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইসরাইলি বিনিয়োগকারী রয়েছেন বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। এসব ভবন স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনে রূপান্তর করায় বাড়িভাড়া বাড়ছে, উচ্ছেদ হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং হারিয়ে যাচ্ছে এলাকার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয়।
৬৯ বছর বয়সি স্থপতি তোনিয়া কাতেরিনি দীর্ঘদিন ধরে এথেন্সের এক্সারখিয়া এলাকায় বসবাস করছেন। তার অভিযোগ, সম্পত্তি কেনাবেচার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে তার পরিচিত পাড়া। এলাকাটিতে দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থি রাজনীতির প্রভাব রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ফ্ল্যাট কিনে সেগুলো স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনে রূপান্তর করা হচ্ছে।
গত কয়েক মাস ধরে কাতেরিনি ও তার কয়েকজন প্রতিবেশী সরকারি নথি পর্যালোচনা করে বিদেশিদের সম্পত্তি কেনার তথ্য সংগ্রহ করছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তারা একটি ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি করেছেন। সেখানে বিদেশিদের কেনা সম্পত্তিগুলো লাল বিন্দু দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। মানচিত্রে পুরো এলাকাজুড়ে অসংখ্য লাল বিন্দু দেখা যায়।
১৯৮৬ সাল থেকে নিজের ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন কাতেরিনি। তার বাড়ির বারান্দা দিয়ে নিচের ক্যাফেগুলোর কথাবার্তা ও কোলাহল ভেসে আসে। ঘরের ভেতরে গাছপালার পাশে স্তূপ করে রাখা রয়েছে স্থাপত্যবিষয়ক নকশা। তবে তার পরিচিত এলাকার পরিবেশ এখন অনেকটাই বদলে গেছে।
কাতেরিনি ও তার সহযোগীদের দাবি, এলাকায় স্বল্পমেয়াদি ভাড়াবাড়িতে বিনিয়োগ করা অর্থের বড় অংশ এসেছে ইসরাইলি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, নতুন করে চালু হওয়া কোম্পানি পরিচালিত হোটেল ও ভাড়াবাড়ির অর্ধেকেরও বেশি ইসরাইলিদের মালিকানাধীন।
ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে যে এলাকায় বিভিন্ন ভবনের বারান্দায় ফিলিস্তিনি পতাকা ঝুলছে এবং দেয়ালে দেয়ালে প্রতিবাদী স্লোগান লেখা রয়েছে, সেখানে ইসরাইলি বিনিয়োগের বিষয়টি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
কাতেরিনি জানান, প্রতিদিন সকালে পর্যটকদের টেনে আনা স্যুটকেসের শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। তার সড়কে ইসরাইলি বিনিয়োগকারীরা দুটি ভবন কিনেছেন। এমনকি তার ফ্ল্যাটের ঠিক নিচের ফ্ল্যাটটিও একটি কোম্পানির মালিকানাধীন। তিনি বলেন, নিচতলার বাসিন্দারা ভালো মানুষ হলেও কোম্পানিটি ইসরাইলি।
এলাকার কয়েকটি সড়ক দূরে একটি আবাসিক ভবনের দেয়ালে লেখা রয়েছে, ‘এয়ারবিএনবি আমাদের গৃহহীন করছে।’ অন্য একটি স্লোগানে লেখা, ‘জায়নবাদীরা স্বাগত নয়।’
স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার এসব ভবন সহজেই চেনা যায়। সাধারণ আবাসিক ভবনের দরজার ঘণ্টায় বাসিন্দাদের নামের পরিবর্তে নম্বর দেখা যায়। দরজার পাশে থাকা বিশেষ কিপ্যাড ব্যবহার করে পর্যটকেরা চাবি সংগ্রহ করেন। এসব ভবনের প্রবেশপথ ও কিপ্যাডে লাল রং ছিটিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।
তাদের অভিযোগ, স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ব্যবসা এলাকায় দ্রুত অভিজাতকরণ ঘটাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বাড়িভাড়া, উচ্ছেদ হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং হারিয়ে যাচ্ছে এলাকার নিজস্ব পরিচয়।
গ্রিসের আবাসন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিসের আবাসন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আবাসন খাতে অনাবাসী বিদেশিদের বিনিয়োগ রেকর্ড ২৭৫ কোটি ইউরোতে পৌঁছায়। তবে পরবর্তী বছর বিনিয়োগের গতি কিছুটা কমে।
এথেন্সে কোন দেশের নাগরিকেরা কত পরিমাণ সম্পত্তি কিনছেন, সে বিষয়ে সরকারি কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে গ্রিক সাপ্তাহিক পত্রিকা তো ভিমার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানগুলোর নেটওয়ার্ক রিম্যাক্স হেলাসের বার্ষিক জরিপ অনুযায়ী, রাজধানীসংলগ্ন আতিকা অঞ্চলে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে ইসরাইলিরা শীর্ষে রয়েছেন। তালিকায় তাদের পরেই রয়েছেন তুরস্ক ও লেবাননের নাগরিকেরা।
এক্সারখিয়া এলাকাটির রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসও দীর্ঘ। ১৯৭৩ সালে কাছের এথেন্স পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। এর পরের বছর ওই সরকারের পতন ঘটে।
২০০৮ সালে এক্সারখিয়ায় পুলিশের গুলিতে ১৫ বছর বয়সি গ্রিক শিক্ষার্থী আলেক্সান্দ্রোস গ্রিগোরোপোলোস নিহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কাতেরিনির ভাষায়, ঘটনাটি ছিল ‘শুকনো জমিতে আগুন লাগার’ মতো।
পরবর্তী সময়ে গ্রিসের ঋণসংকট গভীর হলে রাজপথের ক্ষোভ বামপন্থি দল সিরিজাকে ২০১৫ সালে ক্ষমতায় আসার পথ তৈরি করে দেয়।
রাতারাতি উচ্ছেদ হয়েছেন ভাড়াটিয়ারা
এক্সারখিয়ায় ২৪ বছর ধরে বসবাস করছেন ৪৬ বছর বয়সি স্কুলশিক্ষক ক্রিসুল্লা পাপাগেওরগিউ। এলাকার রাস্তাঘাটে তিনি পরিচিত মুখ। তার স্মৃতিতে এক্সারখিয়া ছিল পারস্পরিক সংহতির একটি পাড়া।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দিকে পরিবর্তন ধীরগতিতে এলেও পরে তা দ্রুত বাড়তে থাকে। আগে বাড়ির মালিকেরা নিজেদের অতিরিক্ত কক্ষ ভাড়া দিতেন। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির পর বিভিন্ন কোম্পানি পুরো ভবন কিনতে শুরু করে।
পাপাগেওরগিউ বলেন, রাতারাতি ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং একের পর এক আবাসিক ভবন খালি হয়ে গেছে।
একসময় শান্ত থাকা সড়কগুলোতে নতুন নতুন বার গড়ে উঠেছে। ফুটপাতজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে টেবিল-চেয়ার। একই সঙ্গে বেড়েছে বাড়িভাড়া। প্রথমেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন অভিবাসী ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো। তাদের অনেকেই ভবনের বেজমেন্ট কিংবা নিচতলায় বসবাস করতেন।
এলাকার স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। বন্ধ হয়ে গেছে পুরোনো বইয়ের দোকান, ঐতিহ্যবাহী ক্যাফে ও মুদির দোকান।
বছরের পর বছর এক্সারখিয়ার বাসিন্দারা বিভিন্ন দখল করা ভবনে শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছেন। পাপাগেওরগিউর দাবি, মূল্যবান জমিতে অবস্থিত এসব ভবনই পুলিশের উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম লক্ষ্য ছিল। পরে সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, একসময় এলাকার প্রায় অর্ধেক ভবন দখল করা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখন মাত্র একটি রয়েছে।
শেষ আশ্রয়কেন্দ্রটির গায়ে একটি চাদর টাঙানো রয়েছে, যেখানে ভেতরে থাকা পরিবারগুলোর প্রতি সংহতির বার্তা লেখা। প্রতিবেশীরা সম্মিলিতভাবে সেখানকার শিশুদের স্কুলে যাওয়া নিশ্চিত করেন।
২০২২ সাল থেকে এক্সারখিয়া চত্বর ঘিরে রাখা হয়েছে নতুন মেট্রো স্টেশন নির্মাণের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটির বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই চত্বরের উন্নয়ন প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিলেন অনেক বাসিন্দা। পাপাগেওরগিউ বলেন, এখন দাঙ্গা পুলিশও তাদের প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।
তার ধারণা, এর পেছনে উদ্দেশ্য হলো এথেন্সের কেন্দ্রীয় এলাকাকে পুরোপুরি পর্যটননির্ভর করে তোলা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্পত্তি কিনতে আসা ক্রেতাদের প্রায় সবাই ইসরাইলি বলে দাবি করেন তিনি।
চত্বরের কাছে একটি বড় ফিলিস্তিনি পতাকা ঝুলছে। পর্যটকদের কেউ কেউ পতাকার সাদা অংশে ফিলিস্তিনবিরোধী বার্তা লিখে দেন। পরে আন্দোলনকারীরা রং করে সেসব লেখা মুছে ফেলেন।
কাতেরিনির মতে, ইসরাইলের তুলনায় গ্রিসকে নিজেদের অর্থ রাখার নিরাপদ জায়গা হিসেবে বিবেচনা করছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এথেন্সে সরকারও ইসরাইলের প্রতি খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। গত আগস্টে গ্রিস ইসরাইলের সঙ্গে ৩৫০ কোটি ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি করে।
বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় এক্সারখিয়া
এথেন্স-আতিকা রিয়েল এস্টেট এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের একটি শাখার প্রধান ভ্যাগেলিস লাজারিদিসের মতে, এক্সারখিয়ায় বিনিয়োগের পেছনে অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে।
তিনি বলেন, এলাকাটি একসময় অবহেলিত ছিল। ফলে সেখানে বিনিয়োগের জন্য দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এথেন্সের কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত হওয়ায় এবং মেট্রো স্টেশন ও বিদেশি শিক্ষার্থীতে পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিকটবর্তী হওয়ায় এলাকাটির অবস্থান বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধাজনক। অন্যদিকে, অ্যাক্রোপোলিসের নিচে অবস্থিত প্লাকার মতো এখানে ভবন নির্মাণ ও সংস্কারে তেমন বিধিনিষেধ নেই।
লাজারিদিসের ভাষ্য, কোনো এলাকায় কয়েকজন ক্রেতা বিনিয়োগ শুরু করলে অন্য বিনিয়োগকারীরাও সাধারণত তাদের অনুসরণ করেন।
বিদেশিদের বাড়ি কেনায় কর বাড়ানোর উদ্যোগ
আবাসনবাজারের উত্তাপ কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে গ্রিস সরকার। প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস গত মাসে ঘোষণা দিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর নাগরিকদের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সম্পত্তি হস্তান্তর কর আগামী বছরের জুলাই থেকে ৩ শতাংশের পরিবর্তে ১৫ শতাংশ করা হবে।
এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জেরুজালেম পোস্ট লিখেছে, গ্রিসে উৎসবের দিন শেষ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে তুলনামূলক কম দামে সম্পত্তি কিনে আকর্ষণীয় মুনাফা অর্জনের আশায় ইসরাইলি বিনিয়োগকারীদের কাছে গ্রিস জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছিল। তবে নতুন কর কার্যকর হলে দেশটিতে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যেতে পারে।
লাজারিদিস জানান, রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের সংগঠনগুলো সরকারের এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে। প্রস্তাবটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। তার ধারণা, এটি কার্যকর না-ও হতে পারে অথবা বাস্তবায়ন পিছিয়ে যেতে পারে।
গ্রিক সংবাদমাধ্যম ইন.জিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন কর কার্যকরের সময়সীমার আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের কিছু ক্রেতা দ্রুত সম্পত্তি কেনার চেষ্টা করতে পারেন বলে ধারণা করছেন এজেন্টরা।
স্বল্পমেয়াদি ভাড়াবাড়ি কমার দাবি
তবে আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সবাই মনে করেন না যে বিদেশি বিনিয়োগের এই প্রবাহ থামানো অসম্ভব।
ইউক্রেনের বাসিন্দা ইরিনা রন্দিয়াক এক্সারখিয়ার কাছে নিজের রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক আগে ইসরাইলি ক্রেতারা এলাকায় আসতে শুরু করেন। তার বিদেশি গ্রাহকদের প্রায় ৬০ শতাংশই ছিলেন ইসরাইলি। তাদের অনেকেই পুরো অফিস ভবন কিনে হোটেলে রূপান্তর করতেন।
রন্দিয়াকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার মোট সম্পত্তি বিক্রির প্রায় ৭০ শতাংশের সঙ্গে বিদেশি ক্রেতারা যুক্ত ছিলেন। তবে চলতি বছর সেই হার কমে প্রায় ৩০ শতাংশে নেমেছে।
এই পরিবর্তনের পেছনে তিনি গ্রিস সরকারের তরুণদের জন্য চালু করা ‘স্পিতি মু’ বা ‘আমার বাড়ি’ নামের আবাসন ঋণ কর্মসূচিকে কৃতিত্ব দেন। এ কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণ গ্রিক নাগরিকেরা সরকারি সহায়তায় বাড়ি কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।
কিছু বিধিনিষেধও পরিস্থিতি বদলাতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন রন্দিয়াক।
গ্রিক সাপ্তাহিক পত্রিকা তো ভিমার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক্সারখিয়াসহ এথেন্সের কেন্দ্রীয় এলাকায় নতুন স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না। গত সেপ্টেম্বরে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রিসের ‘গোল্ডেন ভিসা’ আবাসন কর্মসূচির আওতায় কেনা সম্পত্তি এখন থেকে শুধু দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া দেওয়া যাবে। তবে খালি অফিস ভবনকে আবাসিক ফ্ল্যাটে রূপান্তর করে ২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো বিনিয়োগের তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল পথেও এই কর্মসূচির সুবিধা পাওয়া যায়।
রন্দিয়াক বলেন, গ্রিসে বসবাস করেও মানুষ এথেন্সের কেন্দ্রীয় এলাকায় থাকার মতো বাড়ি খুঁজে পেতেন না। সবকিছুই এয়ারবিএনবিতে পরিণত হয়েছিল। এখন এ ধরনের ভাড়াবাড়ি অনেক কমেছে।
তার মতে, পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
তিনি জানান, এমনকি এথেন্সের দক্ষিণের উপশহরগুলোতেও প্রতি বর্গমিটারে বাড়িভাড়া ১০ থেকে ১৫ ইউরো। করের বোঝার কারণে অনেক বাড়ির মালিক সম্পত্তি ভাড়া দেওয়াকে লাভজনক মনে করছেন না। ফলে অনেক ফ্ল্যাট খালি পড়ে থাকছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এখনো পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী হতে পারছেন না। তাদের মতে, স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িক। পর্যাপ্ত অর্থ থাকলে বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন উপায়ে আবারও বাজারে প্রবেশের সুযোগ খুঁজে নিতে পারেন। তা ছাড়া ইতিমধ্যে এলাকার অনেক ভবন স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনে পরিণত হয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা অতীতে ঘটে যাওয়া পরিবর্তন ফিরিয়ে আনতে পারবে না।
এক্সারখিয়ায় ফিরে পাপাগেওরগিউ নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করেন। তার বাড়িওয়ালার পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছে। বাড়িওয়ালা ভাড়া না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাপাগেওরগিউর ভাষায়, এটি একধরনের প্রতিরোধ।
রসিকতা করে তিনি বলেন, বাড়িওয়ালার হিসাবরক্ষক তাকে জানিয়েছেন, ভাড়া না বাড়িয়ে তিনি যেন পুরো আবাসনবাজারটাই নষ্ট করে দিচ্ছেন।