মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাক হোসেনের সরে দাঁড়ানোর ঘটনাকে একটি যুগান্তকারী ও নির্ভীক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি মনে করেন, দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ইশরাকের রাজনৈতিক যাত্রার কোনো ইতি ঘটছে না, বরং আগামী দিনে আরও বড় পরিসরে জনগণের সেবা করার সুযোগ তৈরি হলো।
সোমবার মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। বর্তমানে এক সপ্তাহের সফরে পবিত্র ওমরাহ হজ পালনের লক্ষ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন তিনি। প্রবাসে থেকেই তিনি খবর পান যে, রাজপথের লড়াকু সৈনিক ও তার স্নেহভাজন সহযোদ্ধা ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।
নিজের লেখায় ইশরাকের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সখ্য, পুরোনো স্মৃতি এবং বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম ও জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে ইশরাকের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন মাহদী আমিন। গৌরবময় পারিবারিক পরম্পরার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি তিনি ইশরাককে সেই উত্তাল দিনগুলোর একজন নির্ভীক সেনানী হিসেবেও আখ্যা দেন।
দলের তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনার মতো বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে ইশরাকের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে মাহদী আমিনের। সেই কাজের সূত্র ধরে তিনি জানান, দেশাত্মবোধ এবং জাতীয়তাবাদী চেতনাকে ইশরাক যেভাবে হৃদয়ে লালন করেন, তা এক কথায় অতুলনীয়।
সাম্প্রতিক যে বিষয়টি ঘিরে এত আলোচনা ও বিতর্কের সূত্রপাত, সে প্রসঙ্গেও আলোকপাত করা হয় ওই ফেসবুক পোস্টে। সেখানে বলা হয়, ইশরাকের কাজ করার ধরন বা কৌশল নিয়ে কারও কারও মনে দ্বিমত কিংবা প্রশ্ন থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু যে মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি ওই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তার সততা ও যৌক্তিকতা শতভাগ প্রশ্নের ঊর্ধ্বে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রের মতে, কেবল একটি প্রতিমন্ত্রীর চেয়ার অথবা একটি অব্যাহতিপত্রের মাপকাঠিতে ইশরাকের মতো ত্যাগী নেতার রাজনৈতিক অবস্থানকে বিচার করা ভুল হবে। তাৎক্ষণিক যেকোনো পদক্ষেপের চেয়ে সাধারণ মানুষ, দল এবং রাষ্ট্রের প্রতি তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও নিবেদন অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে ওই বার্তায় আরও জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অত্যন্ত বিশ্বস্ত, জনপ্রিয় এবং নিবেদিতপ্রাণ কোনো তরুণ নেতার জনকল্যাণমূলক কাজেও যদি সামান্যতম প্রশ্নের সৃষ্টি হয়, তবে সেখানেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এর মধ্য দিয়ে মূলত জনগণের কাছে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টিই ফুটে উঠেছে। দেশ গড়ার আগামী দিনগুলোতেও প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এই দায়বদ্ধতার চর্চা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাহদী আমিন।
বক্তব্যের ইতি টেনে তিনি উল্লেখ করেন, নজিরবিহীন এই পদত্যাগ কখনোই কোনো রাজনৈতিক সমাপ্তিরেখা হতে পারে না। বরং আত্মসমালোচনা, শোধরানো এবং সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম সমর্থনকে পুঁজি করে অদূর ভবিষ্যতে ইশরাক হোসেন আরও বৃহৎ ও জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বে ফিরবেন বলেই তার দৃঢ় বিশ্বাস।