ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও এর ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে ভুল বার্তা দেওয়ার অপরাধে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের নজিরবিহীন আর্থিক দণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একটি বিচারিক আদালত। দেশটির স্মরণকালের সর্ববৃহৎ এই জরিমানার আদেশটি প্রদান করেন বিচারক ফ্রান্সিস ম্যাথিউ। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এই খবর জানা গেছে।
আদালতের বিচারকাজে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, ২০১০ থেকে শুরু করে ২০২১ সাল পর্যন্ত মেটার কর্ণধার মার্ক জাকারবার্গ এবং অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা সুপরিকল্পিতভাবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। বাইরের কোনো সংস্থার কাছে গ্রাহকের ডেটা হস্তান্তর করা হবে না বলে প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা রক্ষা করা হয়নি। বরং কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, বিভিন্ন উপায়ে গ্রাহকদের সংবেদনশীল তথ্য অন্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এই রায়ের বিষয়ে নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেস কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছেন যে, কোনো প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানই আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না।
আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ২০ লাখের মতো বাসিন্দা মেটার এই চক্রান্তের শিকার হয়েছেন। এর মাধ্যমে সেখানকার স্থানীয় আইন অন্তত চার কোটি বার লঙ্ঘিত হওয়ার শক্ত প্রমাণ মিলেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী জরিমানার অঙ্ক ২১৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ালেও পরবর্তীতে বিচারক তা কমিয়ে ২৫ বিলিয়ন ডলারে নির্ধারণ করেন, যা মূলত মেটার এক প্রান্তিক বা তিন মাসের আয়ের প্রায় সমান। তবে মেটার প্রধান আইন কর্মকর্তা সিজে মাহোনি জানিয়েছেন, তারা শিগগিরই এই রায়ের বিপরীতে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
অন্যদিকে, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বাজারে গুগলের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে মেটা প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করে চলেছে। কোম্পানিটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সুসান লি জানিয়েছেন, চলতি বছরে এআই খাতেই তাদের খরচ ১৩৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন বিপুল ব্যয়ের কারণেই মেটা তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নেতিবাচক নগদ অর্থ প্রবাহ বা ক্যাশ ফ্লো ঘাটতির মুখে পড়েছে।