বৃহস্পতিবার, 22 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

যন্তর মন্তরে কর্মসূচি না দেওয়ার শর্তে জামিন পেলেন সিজেপির দুই শীর্ষ নেতা

মুক্তির শর্ত হিসেবে উভয় নেতাকে পঞ্চাশ হাজার রুপির ব্যক্তিগত বন্ড ও সমমূল্যের জামিনদার বন্ড দাখিল করতে হয়েছে।

যন্তর মন্তরে কর্মসূচি না দেওয়ার শর্তে জামিন পেলেন সিজেপির দুই শীর্ষ নেতা
ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে ভবিষ্যতে আর কোনো জমায়েত বা বিক্ষোভের ডাক না দেওয়ার শর্তসাপেক্ষে কারামুক্ত হয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর দুই শীর্ষস্থানীয় নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।

টানা সাত দিন বিচারিক হেফাজতে থাকার পর গতকাল বুধবার বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) নির্দেশে তাঁরা জামিন পান। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং আগামীকাল শুক্রবার এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী, মুক্তির শর্ত হিসেবে উভয় নেতাকে পঞ্চাশ হাজার রুপির ব্যক্তিগত বন্ড ও সমমূল্যের জামিনদার বন্ড দাখিল করতে হয়েছে। এর আগে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের আরও তিন দিন আটকে রাখার আবেদন করা হয়েছিল, যা আদালত খারিজ করে দেয়।

জামিনে মুক্ত হওয়ার পূর্বে এই দুই রাজনীতিক লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছেন যে, তাঁরা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখবেন এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করবেন। যন্তর মন্তরকে পুনরায় সরকারিভাবে বিক্ষোভস্থল হিসেবে আইনি বৈধতা না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো ধরনের জমায়েতের ডাক দেওয়া থেকে তাঁরা বিরত থাকবেন। এমনকি ভবিষ্যতের যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি সাংবিধানিক নিয়মকানুনের ভেতরে থেকেই পালন করা হবে বলে মুচলেকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর এই দুই নেতা যন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ প্রধান ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। ওই স্থানটির বিক্ষোভস্থল হিসেবে স্বীকৃতি বাতিলের প্রতিবাদেই তাঁরা এমন পদক্ষেপ নেন। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল, এর মাধ্যমে তাঁরা গত ১০ অক্টোবরের দেওয়া পূর্ববর্তী একটি মুচলেকা লঙ্ঘন করেছেন। মূলত নির্বাচনী দুর্নীতির অভিযোগে ওইদিন বিক্ষোভের ডাক দিলে তাঁদের আটক করা হয়েছিল এবং সেবারও শান্তি রক্ষার শর্তে তাঁরা মুক্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু তিন দিন পরই পুনরায় যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়।

শর্ত ভঙ্গের দায়ে গত ১৪ অক্টোবর এসইএম আদালতে হাজির করার পর তাঁদের প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচ দিনের জন্য কারাবাসে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে গত সোমবার সেই মেয়াদ আরও দুই দিন বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এই দীর্ঘসূত্রতার বিরুদ্ধে সিজেপির পক্ষ থেকে দিল্লি হাইকোর্টে আপিল করে অভিযোগ করা হয় যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের নেতাদের আটকে রাখতে বিচারকাজে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার সেই আপিলের শুনানিকালে উচ্চ আদালত মুচলেকা ভঙ্গের বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিচারকেরা মত দেন যে, আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা নেতারা যদি ব্যারিকেড ভাঙার মতো কাজ করেন, তবে সাধারণ জনতাও তাতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। শুনানিতে বৈশ্বিক ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বেঞ্চ উল্লেখ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাধারণ আন্দোলন থেকে অগ্নিসংযোগ ও সরকারি স্থাপনায় হামলার মতো ভয়াবহ সহিংসতার নজির রয়েছে। শুনানিকালে ওই দুই নেতার বয়স ২৭ ও ৩১ বছর জানতে পেরে আদালত মন্তব্য করেন যে, তাঁরা নিজেরা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত না হলেও সাধারণত এই প্রজন্মের তরুণেরাই তাঁদের কর্মসূচিতে বেশি অংশ নেন। এর আগে গত জুন-জুলাই মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় হওয়া যে আন্দোলনের জেরে শিক্ষামন্ত্রীর রদবদল ঘটেছিল, সেখানেও এই তরুণদেরই আধিক্য ছিল।

কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার পর প্রতিক্রিয়ায় সৌরভ দাস জানান যে, শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হয়েছে। অভিজিৎ দীপকের হাতে গড়া দল সিজেপি বর্তমানে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার রয়েছে। তাদের মূল অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনার স্বৈরতান্ত্রিকভাবে কাজ করছেন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন কার্যক্রমে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস জোটও ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া নিয়ে অভিন্ন অভিযোগ করে আসছে। যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার মতো স্পর্শকাতর এক রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই আদালতের কড়া নির্দেশনার বেড়াজালে আটকে মুক্তি পেলেন সিজেপির এই দুই নেতা।