ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর দেশব্যাপী কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগ আসলেও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আশা প্রকাশ করেছেন, দিন শেষে জনগণ একটি “ভালো নির্বাচন” উপহার পাবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার পর ঢাকা-১৫ আসনের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “যদি আমাদের গর্বের সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনী তাদের কর্তব্যটা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে, তাহলে আমরা আশা করি দিন শেষে জাতি একটা ভালো ভোট উপহার পাবে।”
শফিকুর রহমান আরও বলেন, “ভালো নির্বাচন হলেই একটা ভালো সরকার তৈরি হবে। যে সরকার এ দেশের মানুষকে নিয়ে ভাববে। যে সরকার হবে জনগণের সরকার। আর জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে যদি কোনো সরকার গঠিত হয়, তাহলে ওই সরকার জনগণের দুঃখ-দরদ বুঝবে না এবং জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সেতুবন্ধ থাকবে না।”
জামায়াত আমির জানান, তিনি সকালে মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকায় মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের বালক শাখা কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। সে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, “তখন সেখানে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজমান দেখেছি এবং ভোটার উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। এরপরে আমি ক্রমান্বয়ে অনেকগুলো সেন্টার দেখার চেষ্টা করেছি। আমি যেখানে যেখানে গিয়েছি (তার মধ্যে) দুই-একটা সেন্টার ছাড়া বাকি সেন্টারগুলোর টার্নআউট ছিল খুবই সন্তোষজনক।”
তবে মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের বালিকা শাখা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের জোর করে ঢুকে পড়ার অভিযোগও তুলেছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “এই আসনের (ঢাকা-১৫) সর্বাধিকসংখ্যক ২৬ হাজার ভোট রয়েছে ওই কেন্দ্রে। সেই জায়গায় হঠাৎ করে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কিছু লোক বেপরোয়াভাবে ঢুকে পড়েন। তারা ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এমনকি সেখানে আমাদের যারা ভোটার এবং সমর্থক, তাদেরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।”
ঘটনা শুনে জামায়াত আমির নিজে ওই কেন্দ্রে পৌঁছান এবং তিনি বলেন, “আমরা সেখানে গিয়ে দেখলাম যে সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিষয়টা হ্যান্ডেল করছেন। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করে বললেন যে ‘পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।’”
তিনি আরও বলেন, “আমি তখন তাকে (সেনা কর্মকর্তা) বলেছি যে ভোট আওয়ার শেষ হওয়ার পরে শুধু ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরকারের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন আর যারা বিভিন্ন প্রার্থীর এজেন্ট আছেন, তার বাইরে যেন কেউ ঢুকতে না পারে। ভেতরের পরিবেশটা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাইরের কেউ যেন অহেতুক জটলা এবং টেনশন সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবেন।”
শফিকুর রহমানের ভাষ্য, “আমরা চাই ভোটটা শান্তিপূর্ণ হোক। প্রত্যেকটি মানুষ এসে তার মতো করে তার পছন্দমতো ভোটটা দিয়ে যাক। ভয়ের সংস্কৃতি যেন তৈরি না হয়।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “এ পর্যন্ত সারা দেশের যে খবর আমরা পেয়েছি, বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি–দলীয় যারা ক্যান্ডিডেট, তাদের কর্মী-সমর্থকরা বেশ কিছু জায়গায় সমস্যা তৈরি করেছে।”
ভোটের ফল গণনার সময় বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আশঙ্কা করছি, ভোট শেষ হওয়ার পর গণনার সময় ওই ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা যদি তৈরি হয়, তাহলে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হবে না।”
দুপুর সোয়া ২টার দিকে শফিকুর রহমান বলেন, “মানুষ যেভাবে (ভোট দিতে) আসছে, (তাতে) আমরা আশাবাদী। এখনো যে সময় হাতে আছে, তাতে হয়তো ভালো টার্নআউট হবে ইনশা আল্লাহ।”