সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত : বাণিজ্যমন্ত্রী

বিদেশের মাটিতে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং শ্রমবাজারের মাধ্যমে মূলত বাংলাদেশের নামই বিশ্ব দরবারে প্রতিনিধিত্ব পায় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত : বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বিদেশের মাটিতে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং শ্রমবাজারের মাধ্যমে মূলত বাংলাদেশের নামই বিশ্ব দরবারে প্রতিনিধিত্ব পায় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি জানান, এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে দেশের সুনাম বৃদ্ধি, রপ্তানি যোগ্যতা বাড়ানো এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের নীতিগত ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

সচিবালয়ে রবিবার সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে তাঁর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাত এখনো প্রধানত তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। তবে সৌদি আরবসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের উৎপাদিত ওষুধ, চামড়াজাত ও পাটজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং স্থানীয় ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী তৈরি পোশাক রপ্তানি করার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এই বাণিজ্যিক সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে প্রথাগত চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

বিদেশে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, অভিবাসী কর্মীরা দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে অনেক বড় ত্যাগ স্বীকার করেন। তাদের যদি আধুনিক কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়, তবে ব্যক্তি ও পরিবারের পাশাপাশি পুরো রাষ্ট্র সমভাবে লাভবান হবে। রেমিট্যান্স বা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি এই দক্ষ জনশক্তি একসময় বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সম্পদে রূপান্তরিত হতে পারে।

আগত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের কোন খাতে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট সাহায্য প্রয়োজন, কোথায় আইনি ও নীতিগত সংশোধন দরকার কিংবা আর্থিক সহায়তার জায়গাগুলো কোনগুলো—সেসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাবনা তৈরি করে জমা দিতে হবে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এমন কার্যকর প্রস্তাব পাওয়া গেলে সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী বলেন, সৌদি আরবের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার গুণগত মান উন্নত করতে পারলে সেখানে রপ্তানি বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত সহায়তা এবং সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যেই সৌদি আরবে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জানান, সৌদি ভিশন ২০৩০, ওয়ার্ল্ড এক্সপো এবং ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশটিতে শিক্ষা, দক্ষ জনবল বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব গ্রিন টেকনোলজি, মরুভূমি বনায়ন, আধুনিক কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক অর্থায়নের মতো খাতগুলোতে বাংলাদেশের কাজ করার ব্যাপক সুযোগ তৈরি হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, নতুন বিনিয়োগ এবং খাতভিত্তিক সহযোগিতা আরও গতিশীল করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।