শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ঈদের ১৫ দিনে সড়কে ঝরল ৩৫১ প্রাণ

ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরে ফেরা মানুষের যাত্রায় এবারও রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে গত ১৫ দিনে সংঘটিত ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৯৪ জন, আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ২৮৮ জন।

ঈদের ১৫ দিনে সড়কে ঝরল ৩৫১ প্রাণ
ডিআরইউ-এর সাগর-রুনি হলে ‘ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০২৬’ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। ছবি: সংগৃহীত

ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরে ফেরা মানুষের যাত্রা এবারও রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে গত ১৫ দিনে সংঘটিত ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৯৪ জন, আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ২৮৮ জন।

সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০২৬’ প্রকাশ করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এতে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে শুধু সড়ক দুর্ঘটনাতেই নিহত হয়েছেন ৩৫১ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৪৬ জন। গত বছরের তুলনায় এবার প্রাণহানি বেড়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং দুর্ঘটনা বেড়েছে ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৩ শতাংশই ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে।

সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৮৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ১৪ মার্চ ঈদযাত্রা শুরু থেকে ২৮ মার্চ কর্মস্থলে ফেরা পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, অন্যান্য বছরের মতো এবারও দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ছিল মোটরসাইকেল। ঈদে ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মোট প্রাণহানির ৩৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এছাড়া দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৭ দশমিক ১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান এবং ১৬ দশমিক ২২ শতাংশ যাত্রীবাহী বাস ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও পরিবহন খাতে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক প্রভাব এবং মালিক-শ্রমিক নেতাদের আধিপত্য এখনো বহাল রয়েছে। তিনি বলেন, ঈদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বৈঠকে যাত্রী বা নাগরিক সমাজের কোনো প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি। পাশাপাশি পরিবহন মালিকদের একচেটিয়া প্রভাবের কারণে ভাড়া নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, যা দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।