চাঁদপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী ও যোগদান অনুষ্ঠান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। অনুষ্ঠানে চারজন মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন থেকে দুই শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে দলে স্বাগত জানানো হয়। বিষয়টি এনসিপি তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন, চাঁদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মাহবুব আলম, সদস্য সচিব আমানউল্লাহ পাটওয়ারী, মতলব উত্তর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আরিফা তুহিন, সদস্য সচিব ইমাদ এবং চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইদ্রিস আলীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া দলটির সহযোগী সংগঠন ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি, নারীশক্তি ও শ্রমিকশক্তির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এনসিপির তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, আপ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন থেকে দুই শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক দলটিতে যোগ দেন। আয়োজকদের মতে, এই যোগদান নতুন রাজনৈতিক ধারা, ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি ও গণমুখী কর্মকাণ্ডের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল চারজন বীর মুক্তিযোদ্ধার এনসিপিতে যোগদান। তারা হলেন— আবু বকর সিদ্দিক, ওসমান গনি, রমিজ উদ্দিন ও মোহাম্মদ আলী। তাদের মধ্যে একজন মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত এসব বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্পৃক্ততা নতুন প্রজন্মের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, তরুণ নেতৃত্বের বিকাশ এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নবাগত নেতাকর্মীদের জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
এনসিপির দাবি, মতলব উত্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, বিপুল জনসমাগম এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতি জনসাধারণের আগ্রহ ও প্রত্যাশা ক্রমেই বাড়ছে।