মঙ্গলবার, 27 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ভারতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা!

ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত মোস্তফা আহমেদ সাগর নামের পঁচিশ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ফেসবুক আইডিতে আবেগঘন বার্তা পোস্ট করার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ভারতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা!
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত মোস্তফা আহমেদ সাগর নামের পঁচিশ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ফেসবুক আইডিতে আবেগঘন বার্তা পোস্ট করার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

দিল্লির ফরিদাবাদ অঞ্চলের একটি বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা মানাব রাচনা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজে কম্পিউটার প্রকৌশল বিষয়ে পড়তেন তিনি। তবে এটি আসলেই নিজের জীবন কেড়ে নেওয়ার ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করে যথাযথ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। নিহত সাগর জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানাধীন কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারি গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ হোসেন মিন্টুর সন্তান। ছেলের আকস্মিক মৃত্যুর এই নির্মম সত্যটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার বাবা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার ২৩ মে বিকালের দিকে সাগরের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি দীর্ঘ বার্তা প্রকাশ করা হয়। সেখানে তিনি নিজের মা-বাবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে লেখেন যে, জীবনকে টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি অনেক সংগ্রাম করলেও শেষ পর্যন্ত ক্লান্ত হয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে ফিরে যাচ্ছেন। দেশের জন্য কতটুকু করতে পেরেছেন তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে সবার কাছে কেবল দোয়ার আর্জি জানান তিনি। একই সাথে জীবনে একটিমাত্র অপূর্ণ ইচ্ছার কথা উল্লেখ করে নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যহীন হিসেবে দাবি করেন এই তরুণ।

বার্তাটিতে নিজের প্রেমিকাকে সম্বোধন করে তিনি আরও লেখেন যে, প্রিয় মানুষের হাত ধরে বেঁচে থাকার স্বপ্নটি অধরাই থেকে গেল। অপর পক্ষকে দেওয়া নিজের একটি প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই কথা রাখতে গিয়েই তিনি নিজেকে চিরতরে সরিয়ে নিচ্ছেন। তবে এই ঘটনার জন্য যেন কোনোভাবেই তার ভালোবাসার মানুষকে অভিযুক্ত না করা হয়, সেই অনুরোধও করেন তিনি। এমনকি মৃত্যুর পর তার শরীরের ময়নাতদন্ত না করে যেন কোনো জটিলতা ছাড়া দাফন সম্পন্ন করা হয় এবং কবরের গায়ে হতভাগা শব্দটি লিখে দেওয়া হয়, এমন আকুলতাও প্রকাশ পায় সেই লেখায়। এই বার্তাটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্বজনরা জানতে পারেন যে, দিল্লির ওই বাসায় সাগরের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে।

হঠাৎ এমন মর্মান্তিক খবর পেয়ে সাগরের পিতা মোশারফ হোসেন মিন্টু চরম শোকগ্রস্ত অবস্থায় জানান, তিনি আকস্মিকভাবে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ শুনেছেন। ওটি আত্মহত্যা নাকি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে তার মনে তীব্র সন্দেহ রয়েছে। এই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানানোর পাশাপাশি সন্তানের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়, সেজন্য তিনি সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

ঘটনার দিন দুপুরের স্মৃতিচারণ করে সাগরের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ওই দিন দুপুর বারোটার দিকেও ছেলের সাথে তার মুঠোফোনে স্বাভাবিক কথা হয়েছিল। আগামী ২৬ তারিখে পরীক্ষা থাকা সত্ত্বেও কেন ঘুমাচ্ছে এবং কলেজের ফির জন্য পাঠানো চল্লিশ হাজার টাকার রসিদ কেন পাঠায়নি, তা জানতে চাইলে সাগর পরে দেওয়ার কথা বলে ফোন রেখে দেয়। এটিই ছিল মায়ের সাথে ছেলের শেষ কথোপকথন। ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এমন ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। এদিকে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্নেহাশীষ রায় এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখার কথা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন।