রবিবার, 8 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৫

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এ ভূমিকম্পে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন এবং একাধিক ভবন ধসে পড়েছে।

ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৫

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এ ভূমিকম্পে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন এবং একাধিক ভবন ধসে পড়েছে।

সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ভূমিকম্পটি আঘাত হানে জেনারেল সান্তোস শহরের দক্ষিণাঞ্চলে। প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার মানুষের বসবাস থাকা এই শহরটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। প্রথম কম্পনের প্রায় দুই ঘণ্টা পর আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, পরবর্তী সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পনের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৫।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, জেনারেল সান্তোস শহরের একটি শপিং মল সম্পূর্ণ ধসে গেছে। ওই ভবনে জলিবি ফাস্টফুড রেস্টুরেন্টও ছিল। এছাড়া একটি পরিত্যক্ত স্কুল ভবন ভেঙে পাশের আরেকটি ভবনের ওপর পড়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

স্থানীয় সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইন ও প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়ায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) জানিয়েছে, ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হয়। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল জেনারেল সান্তোস সিটির উপকূলবর্তী এলাকায়।

জিএফজেড প্রথমে ভূমিকম্পের মাত্রা ৮ দশমিক ২ বলে জানালেও পরে তা সংশোধন করে ৭ দশমিক ৮ নির্ধারণ করে।

দুর্যোগের পর ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জরুরি সাড়া কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “জাতীয় সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আমরা মিন্দানাওবাসীকে এই বিপদে একা ফেলে যাব না।”

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি অঞ্চলগুলো। এর মধ্যে সারাঙ্গানি প্রদেশ, আলাবেল শহর এবং জেনারেল সান্তোস সিটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের কম্পন ফিলিপাইনের বাইরে ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর মানাদোতেও তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। তবে দেশটির দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। যদিও ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় ইতোমধ্যে ০.১৯ মিটার উচ্চতার ছোট সুনামি ঢেউ শনাক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে ফিলিপাইনের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফিভলকস সতর্ক করে জানিয়েছে, এক মিটারের বেশি উচ্চতার সুনামি ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে এবং এর প্রভাব কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশই ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয় ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। টেকটোনিক প্লেটের জটিল বিন্যাসের কারণে এ অঞ্চলে নিয়মিত শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।